রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ জন হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। এই সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, মাহফুজ হোসেন, বীথি দাস নন্দিনী, বিজয় প্রসাদসহ সদস্যরা জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ সময় শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ সপরিবারে সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দ্রুতবিচার এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, গণপতি স্যারসহ তার পরিবারের চার সদস্য হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া কোন পথে অগ্রসর হচ্ছে, এ নিয়ে মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। শুধুমাত্র ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে- পুলিশের এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের মনে হচ্ছে সুপরিকল্পিত ও ঠাণ্ডা মাথায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পর অভিযুক্তদের ডোপ টেস্ট করিয়ে ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। অথচ পুলিশ জানে শরীরে কতদিন পর্যন্ত মাদকের অস্তিত্ব থাকে। ঘটনার ১২ দিন পর ৩৫টি আলামত ফরেনসিক করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর অবসরজনিত কারণে পাওয়া টাকা নিয়ে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। পুরো ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। সেজন্য আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। বিতর্কিত ভূমিকার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। পুলিশ যদি কোনো পক্ষকে বাঁচানোর চেষ্টা করে তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
(0)Comments