ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে নতুন করে ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকার নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্য উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে 'ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিল'-এর পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সফল হলে পরবর্তী সময়ে এর পরিসর বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৃজনশীলতা রয়েছে, কিন্তু অর্থের অভাবে অনেকেই তা কাজে লাগাতে পারেন না। তাই 'অ্যাক্সেস টু ফাইন্যান্স' নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের এ খাতে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র, ওটিটি, ফ্রিল্যান্সিং, স্থানীয় খাবার ও গ্রামীণ পণ্যকে বাণিজ্যিকভাবে বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্বের কোনো কোনো দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল খাতের অবদান ১০ শতাংশ পর্যন্ত উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১০ শতাংশে যেতে না পারলেও ২-৩ শতাংশে নিতে পারলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। স্থানীয় সৃজনশীলতাকে পণ্য ও সেবায় রূপান্তর করে বৈশ্বিক বাজারে নেওয়া গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বাড়বে। থাইল্যান্ডের 'ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট' কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষের তৈরি পণ্যকে কাঁচামাল, দক্ষতা, ডিজাইন, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের সহায়তায় বিশ্ববাজারে নেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশেও এ ধরনের সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। শুধু ঋণ দিলেই হবে না, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণেও পাশে থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, এ প্রকল্পের আওতায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণে ২৪-২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নেওয়া হলেও এ উদ্যোগে উদ্যোক্তারা তুলনামূলক কম খরচে অর্থায়ন পাবেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান।
(0)Comments