নতুন গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনকে দেশের বিচারব্যবস্থায় একটি 'মাইলফলক' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নতুন এ আইনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক ও পরিকল্পিত গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আগে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। ফলে গুমের ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়াও কার্যত এগোয়নি। নতুন আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের পর গোপন স্থানে রাখলে কিংবা আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় কাউকে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আটক রাখলেও সেটি গুমের অপরাধ হবে। তিনি বলেন, কোনো গুম যদি ব্যাপক বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়, তাহলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হবে। আর যেসব ঘটনা 'ওয়াইডস্প্রেড' বা 'সিস্টেমেটিক' পর্যায়ে পড়বে না, সেগুলো স্বতন্ত্র গুম অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচার হবে। আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন গুমসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নতুন আইনের আলোকে পর্যালোচনা করা হবে। কোনো মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে হওয়া প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট আদালত তা ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে পারবে। একইভাবে চিফ প্রসিকিউটর বা তদন্ত সংস্থাও প্রয়োজন হলে মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে পারবে। তিনি বলেন, নতুন আইনটি একটি পূর্ণাঙ্গ আইন। এর ফলে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের জন্য বিচার পাওয়ার পথ আরও সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে গুমের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা নিয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি জানান, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরে আর সেই সুযোগ থাকে না। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোন কিংবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না। চিফ প্রসিকিউটর জানান, সম্প্রতি আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার আপিল গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের সামনে কোনো বিচারাধীন কার্যক্রমও নেই।
(0)Comments