ইন্দোনেশিয়ায় বন্ধ ৮ বিমানবন্দর

ইন্দোনেশিয়ায় বন্ধ ৮ বিমানবন্দর
View on original source
Category: Tourism
Share
Archive
Like
ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী জাকার্তাসহ দেশটির আটটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত এসব বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি। গত রবিবার সকালে জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর একে একে ল্যাম্পুং ও পশ্চিম জাভা প্রদেশের ৭টি বিমানবন্দর বন্ধের কথা জানায় কর্র্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ২ হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এতে আটকেপড়া পর্যটকসহ ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিবিসি ও গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিটি জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি প্রণালিতে অবস্থিত। গত শুক্রবার রাত থেকে সেখানে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এরপর আগ্নেয়গিরির ছাই জাকার্তা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কার্যক্রম বন্ধ রাখার কারণে মূলত সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া দোহা, সিডনি, কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে। পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধী এক বিবৃতিতে বলেন, 'পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি কখন ঠিক হবে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।' ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূকম্পনবিষয়ক সংস্থা বিএমকেজি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাই আগ্নেয়গিরিটির জাভা দ্বীপের দিকের আকাশে ২০ হাজার ফুট এবং সুমাত্রা দ্বীপের দিকের আকাশে ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে ছড়িয়ে পড়েছে। জাভার বানটেন প্রদেশের কিছু অংশের আকাশেও ছাই ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ছাইয়ের কারণে বাইরে চলাফেরার সময় লোকজনকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব পড়েছে জাকার্তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনতারা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জাকার্তা ও ল্যাম্পুংয়ের স্কুলগুলোতে দূরশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। তবে এই ব্যবস্থা কতদিন চলবে, তা জানানো হয়নি। আগামী কয়েক দিন আগ্নেয়গিরিটিতে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আনাক ক্রাকাতোয়ার সর্বশেষ স্থানীয় সময় গত রবিরাত রাতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। গত শতকের শুরুতে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠে আনাক ক্রাকাতোয়া। ১৮৮৩ সালে ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট বিশাল গহ্বর বা ক্যালডেরার মধ্যেই পরে এই নতুন আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। সেই অগ্ন্যুৎপাত ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.