সুন্দরবনের অজানা গল্প

সুন্দরবনের অজানা গল্প
View on original source
Category: Tourism
Share
Archive
Like
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে এমন একটি বন আছে, যেখানে মাটির চেয়ে পানির উপস্থিতি বেশি মনে হয়, গাছের শিকড় জোয়ারের পানির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকে, আর বনের গভীরে এমন এক প্রাণী ঘুরে বেড়ায় যার নাম শুনলেই পুরো বনটির কথা মনে পড়ে। সেই বন হলো সুন্দরবন। সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের একটি বন নয়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একটানা জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন। বাংলাদেশের অংশটি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় ছড়িয়ে আছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার, যার ৬৯ শতাংশ স্থলভাগ এবং ৩১ শতাংশ জলভাগ। উৎস: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সুন্দরবনের সরকারি পরিচিতি ও আয়তন কিন্তু সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় গল্প তার আয়তনে নয়। এর আসল গল্প হলো কীভাবে একটি বন প্রতিদিন জোয়ার ও ভাটার সঙ্গে বদলে যায় এবং কীভাবে মানুষ, নদী, গাছ ও বন্যপ্রাণী একসঙ্গে এই কঠিন পরিবেশে টিকে থাকে। জোয়ারের সঙ্গে বদলে যায় যে বন সুন্দরবনের জীবন অনেকটাই নির্ভর করে পানির ওপর। এখানে অসংখ্য নদী, খাল ও জলপথ বনের ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে গেছে। দিনে দুইবার জোয়ারের পানি অনেক এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং ভাটার সময় আবার সরে যায়। এই কারণে সুন্দরবনের মাটি, পানি এবং গাছপালার জীবনধারা সাধারণ স্থলভাগের বনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বিশেষ অভিযোজনের কারণে তারা লবণাক্ত ও জোয়ারপ্রবণ পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। কেওড়া, গরান, গেওয়া, সুন্দরীসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ সুন্দরবনের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উৎস: খুলনা জেলা প্রশাসন সুন্দরবনের সরকারি পরিচিতি এই গাছগুলোর শিকড়ও অন্য অনেক বনের গাছের মতো নয়। কিছু গাছের শিকড় মাটির ওপরে উঠে আসে, যাতে জলাবদ্ধ পরিবেশেও তারা বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। অর্থাৎ সুন্দরবনের প্রতিটি গাছ যেন এই কঠিন পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য নিজস্ব কৌশল তৈরি করেছে। সুন্দরবনের নামের মতোই রহস্যময় তার জীবন সুন্দরবনকে আমরা একটি বন হিসেবে দেখি। কিন্তু বাস্তবে এটি বন, নদী, খাল, কাদা, জোয়ার, ভাটা, লবণাক্ত পানি এবং অসংখ্য প্রাণীর সমন্বয়ে তৈরি একটি বিশাল বাস্তুতন্ত্র। একটি জোয়ারের সময় যে জায়গাটি পানিতে ডুবে যায়, কয়েক ঘণ্টা পর ভাটায় সেটিই আবার কাদামাটির চর হয়ে উঠতে পারে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই সুন্দরবনের প্রাণীরা বেঁচে থাকে। কাদার ওপর ছোট ছোট কাঁকড়া হাঁটে। পানির ধারে মাছ চলাচল করে। গাছের ডালে পাখি বসে। আর কোথাও কোথাও হরিণের দল নীরবে বনের ভেতর দিয়ে চলে যায়। এরই মধ্যে কোনো এক গভীর খালের পাশে হয়তো অদৃশ্যভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে সুন্দরবনের সবচেয়ে বিখ্যাত বাসিন্দা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের রাজা সুন্দরবনের কথা উঠলেই প্রথম যে প্রাণীটির কথা মনে পড়ে, সেটি হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বছরের পর বছর এই বাঘ সুন্দরবনের পরিচয়ের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে সুন্দরবন ও বাঘকে আলাদা করে ভাবা কঠিন। ২০২২-২৩ সালের সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে পূর্ণবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১২৫ পাওয়া যায় বলে ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। উৎস: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই বাঘের জীবনও সুন্দরবনের পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জোয়ারের পানি, কাদামাটি, ঘন গাছপালা এবং বিস্তৃত জলপথের মধ্যে তাকে শিকার খুঁজতে হয়। সুন্দরবনের বাঘ তাই অন্য অনেক বনের বাঘের চেয়ে ভিন্ন পরিবেশে বেঁচে থাকে। কখনো তাকে কাদার ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। কখনো নদী বা খাল পার হতে হয়। আর কখনো ঘন ম্যানগ্রোভের আড়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। হরিণের দল আর নীরব বন সুন্দরবনে বাঘের পাশাপাশি চিত্রা হরিণও অন্যতম পরিচিত প্রাণী। অনেক পর্যটক বনে গিয়ে প্রথম যে বন্যপ্রাণী দেখতে পান, সেটি হয়তো একটি হরিণ। দলের মধ্যে কয়েকটি হরিণ যখন কেওড়া বা অন্যান্য গাছের আশপাশে খাবার খুঁজতে থাকে, তখন পুরো দৃশ্যটি যেন হঠাৎ জীবন্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু হরিণের উপস্থিতির গুরুত্ব শুধু পর্যটকদের আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হরিণসহ অন্যান্য তৃণভোজী প্রাণী গাছপালা খায়, আর তাদের ওপর নির্ভর করে শিকারি প্রাণীরা। এইভাবে একটি বনের ভেতরে প্রতিটি প্রাণী অন্য প্রাণীর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত থাকে। যে বন মানুষকেও বাঁচিয়ে রাখে সুন্দরবনের গল্প শুধু বন্যপ্রাণীর গল্প নয়। এই বনকে ঘিরে বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা গড়ে উঠেছে। জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জন্য সুন্দরবন দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তারা মাছ ধরেন, কাঁকড়া আহরণ করেন এবং মৌসুম অনুযায়ী মধু সংগ্রহ করেন। কিন্তু এসব কাজের সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে। বনের ভেতরে প্রবেশ করা মানে এমন একটি পরিবেশে যাওয়া যেখানে হঠাৎ আবহাওয়া বদলে যেতে পারে, নদীর স্রোত তীব্র হতে পারে এবং বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণেই সুন্দরবন মানুষের কাছে একদিকে জীবিকার জায়গা, অন্যদিকে গভীর শ্রদ্ধা ও সতর্কতার জায়গা। তিন মাস কেন বন্ধ থাকে সুন্দরবন সুন্দরবনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটন, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের প্রজনন মৌসুমে বনের ওপর মানুষের চাপ কমানো। উৎস: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম তিন মাস বন্ধ থাকার পর সুন্দরবন খোলার খবর এই তিন মাস সুন্দরবনের জন্য ছিল অপেক্ষাকৃত শান্ত সময়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানুষের আনাগোনা ও নৌযান চলাচল কম থাকায় এই সময়ে বন্যপ্রাণী তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ পেয়েছে। অর্থাৎ সুন্দরবনকে মাঝে মাঝে মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখাও তার সংরক্ষণের অংশ। আবার খুলেছে সুন্দরবনের দরজা দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর আবার পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য সুন্দরবনের দরজা খুলে দেওয়া হয়। তবে প্রথম দিনই প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মের কথা মনে করিয়ে দেয়। বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে অনেক পর্যটক সেদিন বনের ভেতরে যেতে পারেননি। তারপরও দুই শতাধিক নৌযানের পাস ইস্যু করা হয়েছিল এবং চার শতাধিক জেলে ও বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড তিন মাস পর সুন্দরবন খুলে যাওয়ার খবর পরের কয়েক দিনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। করমজলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আবার মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। উৎস: আজকের বাংলাদেশ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে পর্যটকের ঢল কেন এই তিন মাস এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বনকে রক্ষা করতে সবসময় মানুষকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো বনকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা হতে পারে। সুন্দরবনের ক্ষেত্রে প্রজনন মৌসুমে মানুষের আনাগোনা কমানো বন্যপ্রাণীদের জন্য তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। এ সময় প্রাণীরা মানুষের উপস্থিতির চাপ ছাড়াই নিজেদের স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। বনের ভেতরে নৌযানের শব্দ কমে। পর্যটকদের আনাগোনা কমে। বনজীবীদের প্রবেশও বন্ধ থাকে। ফলে সুন্দরবন কিছু সময়ের জন্য যেন নিজের কাছে ফিরে যেতে পারে। সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নয় সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর গুরুত্ব দেশের সীমানার চেয়েও অনেক বড়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিস্তৃত এই ম্যানগ্রোভ বন পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র। বাংলাদেশের অংশটি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় বিস্তৃত। উৎস: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সুন্দরবনের ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও সরকারি তথ্য এই বিশাল বন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, প্রকৃতি এবং পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ঝড়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিয়মিত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে থাকে। সুন্দরবন সেই উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। ঘন ম্যানগ্রোভ বন, নদী ও খালের জটিল ব্যবস্থা এবং কাদামাটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল উপকূলীয় পরিবেশকে একটি বিশেষ ধরনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়। তাই সুন্দরবন রক্ষা করা শুধু বাঘ বা হরিণ রক্ষা করার বিষয় নয়। এটি উপকূলের মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষার সঙ্গেও যুক্ত। সুন্দরবনের ভেতরের নীরবতা সুন্দরবনের সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয়গুলোর একটি হলো এর নীরবতা। নৌকা যখন সরু কোনো খাল দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়, তখন চারপাশে শুধু পানির শব্দ, পাখির ডাক আর বাতাসে পাতার নড়াচড়া শোনা যেতে পারে। কখনো দূরে একটি হরিণ দেখা যায়। কখনো গাছের ডালে পাখি বসে থাকে। আবার কখনো কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু সেই কিছু না দেখার মধ্যেও একটা অদ্ভুত উত্তেজনা থাকে। কারণ আপনি জানেন, এই বনের কোথাও হয়তো একটি বাঘ আপনাকে দেখছে, অথচ আপনি তাকে দেখতে পাচ্ছেন না। এই অদৃশ্য উপস্থিতিই সুন্দরবনের রহস্যকে আরও গভীর করে। সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ অনেকের কাছে সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কারও কাছে হরিণ। কারও কাছে কেওড়া, গরান আর সুন্দরী গাছ। আবার কারও কাছে নৌকায় করে বনের ভেতর যাওয়ার অভিজ্ঞতা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো এই সবকিছুর একসঙ্গে থাকা। বাঘ আছে কারণ তার শিকার আছে। শিকার আছে কারণ তাদের খাবার ও আবাসস্থল আছে। আবাসস্থল আছে কারণ বন আছে। বন টিকে আছে কারণ নদী, জোয়ার, ভাটা, মাটি ও পানি মিলিয়ে একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র কাজ করছে। এই সম্পর্কের কোনো একটি অংশ ভেঙে গেলে পুরো ব্যবস্থাই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ সুন্দরবন আজও টিকে আছে। কিন্তু এর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার পরিবর্তন, দূষণ, অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ এবং মানুষের চাপ এই বনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই সুন্দরবনের সংরক্ষণকে শুধু একটি বন বিভাগের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে হবে না। সরকার, বন বিভাগ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পর্যটক এবং বনজীবী সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। পর্যটকরা বনে গিয়ে যদি প্লাস্টিক ফেলে আসেন, প্রাণীদের বিরক্ত করেন বা নিয়ম ভঙ্গ করেন, তাহলে সেই ক্ষতি শেষ পর্যন্ত সুন্দরবনের ওপরই পড়ে। আবারও ফিরে আসা মানুষ ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের দরজা আবার খোলার পর কয়েক দিনের মধ্যেই করমজলসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ তিন মাস পর পর্যটকদের ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে নৌযান চালক, গাইড, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ সুন্দরবনকেন্দ্রিক স্থানীয় ব্যবসার মধ্যেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। উৎস: আজকের বাংলাদেশ সুন্দরবন খোলার পর পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি এটাই সুন্দরবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। একটি বন শুধু প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখে না। অনেক মানুষের জীবনও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। শেষ কথা সুন্দরবনের গল্প কোনো সাধারণ বনের গল্প নয়। এটি জোয়ার আর ভাটার গল্প। কাদার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গাছের গল্প। নদীর স্রোতের গল্প। হরিণের সতর্ক চোখের গল্প। আর গভীর বনের আড়ালে নিঃশব্দে চলতে থাকা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গল্প। এটি সেই মানুষের গল্প, যিনি জীবিকার জন্য নদীতে নামেন। সেই মৌয়ালের গল্প, যিনি মধু সংগ্রহ করতে বনে প্রবেশ করেন। সেই পর্যটকের গল্প, যিনি দূর থেকে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। আর সবচেয়ে বেশি এটি প্রকৃতির নিজের গল্প। তিন মাস মানুষ থেকে দূরে থাকার পর ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন আবার খুলেছে। কিন্তু এই দরজা খোলার সঙ্গে আমাদের দায়িত্বও শুরু হয়েছে। কারণ সুন্দরবনকে শুধু দেখতে গেলে হবে না। সুন্দরবনকে বুঝতে হবে। তার নদীকে বুঝতে হবে। তার প্রাণীদের বুঝতে হবে। তার নীরবতাকে সম্মান করতে হবে। কারণ সুন্দরবন হারালে শুধু একটি বন হারাবে না। হারাবে বাংলাদেশের উপকূলের একটি বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, অসংখ্য প্রাণীর আবাসস্থল এবং এমন একটি জীবন্ত পৃথিবী, যার মতো আর কোনো বন বাংলাদেশে নেই। সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় রহস্য হয়তো তার বাঘ নয়। তার সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, প্রতিদিন জোয়ার ও ভাটার সঙ্গে বদলাতে বদলাতেও এই বিশাল বন কীভাবে শত শত বছর ধরে নিজের জীবনকে টিকিয়ে রেখেছে।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.