কলকাতা : দুর্গাপুজো আমিষ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে বিজেপির অন্দরেই ভিন্নসুর। আমিষের বিরোধিতায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় এবং বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। যদিও পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মনে করছেন, পুজোয় খাওয়ার জন্য় আলাদা জায়গা করা উচিত।
বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজো নিয়ে মধ্য়প্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিতের এই মন্তব্য় সমালোচনার ঝড় তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গে বাগেশ্বর বাবার সঙ্গে দেখা গেছে রাজ্য় বিজেপির প্রথম সারির প্রায় সব নেতাকে। বাগেশ্বর বাবার উপস্থিতিতে গোটা মন্ত্রিসভা খাওয়াদাওয়া করেছে। বিতর্ক জোরাল হওয়ার প্রেক্ষাপটে এক্স হ্যান্ডলে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় লিখেছেন, আমি তাঁর (বাগেশ্বর বাবা) সঙ্গে একমত নই এবং নবরাত্রির সময় আমিষ খাবার খাইও। তা সত্ত্বেও আমি ১০০% হিন্দু। হিন্দুত্বে 'মুনাফিক' বা অর্ধ বিশ্বাসী বলে কোনও বিষয় নেই। তথাগত রায় বলেছেন, 'নির্দেশ দেননি, উপদেশ দিয়েছেন। যার ইচ্ছে হবে, সে মানবে, যার ইচ্ছে হবে না, সে মানবে না। আমি তো মানব না। আমি তো বললামই। সেই সময় আমি বিদেশে থাকব। কিন্তু সেই বিদেশে আমি আমিষ খাব। দুর্গাপুজোর সময়।'
জমি জবরদখল, হুমকি দেওয়া, রাস্তা দখল, এমনকী গুলি চালানো - বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অগুনতি অভিযোগ
বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে আমি ধর্মগুরু হিসাবে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু তাঁর উপদেশ আমি মানব কি মানব না সেটা সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছা। এই বৈচিত্র্যই হিন্দুধর্মের বৈশিষ্ট্য। যাদের মোটা মাথায় এই ইসলামী ধারণা ঢুকে আছে যে আমার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ কোন বই বা ধর্মগুরু বা পীর…
কী বলেছেন বাগেশ্বর বাবা ?
'কিছু মনে করবেন না, পশ্চিমবঙ্গের একটি বিষয় আমার ভাল লাগে না। এখানে নবরাত্রির সময় দুর্গা প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। দুর্গা প্যান্ডেলের পিছনে অথবা মঞ্চের নীচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা(অপবিত্র) খাবার তৈরি করা হয়। আমার এটা একেবারেই পছন্দ নয়। আমি চাই, এবারের নবদুর্গা উৎসবে কলকাতার প্রত্যেক হিন্দু জেগে উঠুক এবং এই ধরনের মানুষকে বহিষ্কার করুক। আর তুমি বলছো এদেরকে ধার্মিক বলতে? আমি এদেরকে ধার্মিক বলব না। আমি এদেরকে ধার্মিক নয়, পাখণ্ডী (ভণ্ড) বলে ডাকা হোক চাই। বাংলার হিন্দুরা জেগে উঠুন।' এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, 'উনি একজন সন্ত হিসাবে কথাটা বলেছেন। পুজোর সঙ্গে নন-ভেজ (আমিষ) দেওয়া হোক, তার একটা পরিসর থাকা উচিত। যত মঠ, মন্দির আছে, বড় তীর্থক্ষেত্র আছে, তার মধ্য়ে অনুমতি নেই আমিষ খাওয়ার। খাওয়ার জন্য় আলাদা জায়গা করা উচিত। আমিষ ছাড়া এখানে তো চলবেই না। ফিশ ফ্রাই খাবে...তার জন্য় আলাদা জায়গা করা উচিত। খাওয়ার সঙ্গে পুজোকে মেলানোর দরকার নেই।'
(0)Comments