ভার্চুয়াল ঋণের অন্ধকার ব্যবসা

ভার্চুয়াল ঋণের অন্ধকার ব্যবসা
View on original source
Category: Financial
Share
Archive
Like
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ মাত্র ১৫ হাজার টাকার একটি ঋণ। মাসের শেষে ছোট বোনের টিউশন ফি দিতে জরুরি টাকার প্রয়োজন হয়েছিল ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আশিকুর রহমানের। ফেসবুকে দেখা একটি লোন অ্যাপ থেকে কয়েক মিনিটেই টাকা পান। কিন্তু সাত দিনের মাথায় তার ফোনে শুরু হয় হুমকি, অশ্লীল গালাগাল, পরিবারের সদস্যদের ফোন এবং ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নয়, একটি আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। আশিকুর একা নন। বাংলাদেশে অবৈধ লোন অ্যাপ এখন শুধু উচ্চ সুদের ব্যবসা নয়; এটি ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, এআইনির্ভর ব্ল্যাকমেইল, ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং আন্তঃদেশীয় অর্থপাচারের একটি সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি, বিএফআইইউ, বিটিআরসি এবং ভুক্তভোগীদের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই ডার্ক বিজনেসের বিস্ময়কর চিত্র। রূপালী বাংলাদেশের দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, লোন অ্যাপ চক্রের পুরো প্রতারণা একটি নির্দিষ্ট ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথমে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব ও গুগলে 'মাত্র এক মিনিটে ঋণ', 'জামানত ছাড়াই ক্যাশ' বা 'এনআইডি ছাড়াই লোন'— এ ধরনের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করা হয়। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে তাকে গুগল প্লে-স্টোরের বাইরে থেকে একটি এপিকে ফাইল ইনস্টল করতে বলা হয়। অ্যাপটি ইনস্টলের সময় কন্টাক্ট লিস্ট, গ্যালারি, এসএমএস, ফোন লগসহ বিভিন্ন তথ্য ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হয়। ব্যবহারকারী সম্মতি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব তথ্য বিদেশে থাকা সার্ভারে চলে যায়। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছোট অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু ঋণের মেয়াদ থাকে মাত্র ৭ থেকে ১৪ দিন এবং নানা ফি কেটে রেখে পুরো ঋণের ওপরই সুদ হিসাব করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে শুরু হয় ফোন, এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপে মানসিক চাপ। কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিগুণ বা তিনগুণ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে চুরি করা কন্টাক্ট লিস্টে থাকা স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে ফোন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয় এবং সামাজিকভাবে অপমানের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আদায় করা অর্থ প্রথমে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। পরে একাধিক 'মানি মিউল' অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ ঘুরিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব লোন অ্যাপের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ চীন, কম্বোডিয়াসহ কয়েকটি দেশের আন্তর্জাতিক সাইবার সিন্ডিকেটের হাতে রয়েছে। ফলে মূল হোতাদের শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধার অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফোনের কী কী তথ্য চুরি হয় : অনুসন্ধানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ অবৈধ লোন অ্যাপ ইনস্টলের সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই বিভিন্ন ধরনের অনুমতি নিয়ে নেয়। এসব অনুমতির মাধ্যমে ফোনবুকে থাকা সব নম্বর, এসএমএস, কল হিস্ট্রি, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও, ফাইল, ই-মেইল, ডিভাইসের অবস্থান, মোবাইলের আইএমইআই, ডিভাইস আইডি, আইপি অ্যাড্রেস, ব্যবহৃত মোবাইল মডেল ও অপারেটিং সিস্টেমের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কিছু অ্যাপ ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতিও চায়, যা ভবিষ্যতে নজরদারি বা ভয়ভীতি তৈরির কাজে অপব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্যগুলো বিদেশে থাকা সার্ভারে পাঠিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হয়। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেইল, পরিচয় চুরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাকিং, সিম সোয়াপিং এবং আর্থিক প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়। কাদের বেশি টার্গেট করছে চক্রটি : ডিএমপির ডিবি, সিআইডির সাইবার ইউনিট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, লোন অ্যাপের প্রতারণার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন জরুরি অর্থসংকটে থাকা এবং প্রযুক্তিগতভাবে তুলনামূলক কম সচেতন মানুষ। এর মধ্যে রয়েছেন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী; ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, রিকশাচালক, গৃহিণী ও নিম্ন আয়ের মানুষ; বেকার ও তরুণ চাকরিপ্রার্থী এবং স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও অ্যাপের পারমিশন বা ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যবহারকারীরা। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সামাজিক সম্মানহানির ভয়কে কাজে লাগিয়ে নারী ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে ডিপফেক ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। অন্যদিকে দ্রুত ঋণের প্রয়োজন, ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এই শ্রেণির মানুষদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখায়, ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করায় এবং পরে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অর্থ আদায় ও মানসিক নির্যাতন চালায়। অনুসন্ধানে মিলল লোন অ্যাপের ফাঁদ : রূপালী বাংলাদেশের দীর্ঘ অনুসন্ধানে ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল লোন অ্যাপের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে 'সাথী লোন', 'পপক্যাশ', 'ফিনক্যাশ', 'কুইক লোন', 'কুইক টাকা', 'ঢাকা ফিন', 'লোনবিডি', 'ক্যাশহোরা', 'আলো ক্যাশ', 'ফাস্ট লোন', 'বঙ্গক্যাশ', 'সুবিধা লোন', 'স্মার্ট লোন বিডি', 'অনলাইন লোন বিডি'সহ বিভিন্ন অ্যাপ। অনেক ক্ষেত্রে সুপরিচিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নামও কৌশলে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- 'সাথী লোন' অ্যাপে বছরে ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ সুদে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত এবং 'কুইক লোন' অ্যাপে ১৮ শতাংশ সুদে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। দুটি অ্যাপই গুগল প্লে-স্টোরে রয়েছে এবং এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক ডাউনলোড হয়েছে। কিন্তু ঋণের প্রস্তাবের আড়ালে রয়েছে প্রতারণার অভিযোগ। রাজধানীর বনশ্রীর বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম একটি অ্যাপের মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যেই ৮১ হাজার টাকা বকেয়া দেখার অভিযোগ করেন। তিনি ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা না দেওয়ায় পরিচিতদের ফোন ও ভয়ভীতি দেখানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান। আরেক ভুক্তভোগী গৃহিণী সোনিয়া আক্তার ফেসবুকের 'লোনবিডি' পেজে ৫ লাখ টাকা ঋণের প্রলোভনে প্রথমে ৪৫০ টাকা এবং পরে জামানত হিসেবে ১ লাখ টাকা দেন। টাকা পাঠানোর পর পেজটি আর সাড়া দেয়নি বলে জানান তিনি। রূপালী বাংলাদেশ রফিকুল, সোনিয়া ও রবিউলের মতো অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের ভাষ্য, ঋণের আবেদন করতে এনআইডির ছবি, মোবাইল আর্থিক সেবা নম্বর এবং ফোনে লোন অ্যাপ ইনস্টলের পাশাপাশি ফোনবুক, ছবি, এসএমএস ও লোকেশনের মতো তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিতে হয়। অনুমতি না দিলে অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ কাজ করে না। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, কিছু অ্যাপ সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, আবার কিছু অ্যাপ অস্বাভাবিক উচ্চ সুদে ঋণ দেয়। ভুক্তভোগীদের একজনের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুদের হার ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এসব অ্যাপ পরিচালনাকারীদের অনেকের দৃশ্যমান অফিস বা নির্ভরযোগ্য ঠিকানাও পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে ঋণের নামে আসলে কারা এই ব্যবসা চালাচ্ছে? দেশীয় কল সেন্টারের নেপথ্য কাহিনি : তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাইবার অপরাধ দমনকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লোন অ্যাপভিত্তিক প্রতারণার বড় অংশ পরিচালিত হয় সংগঠিত কল সেন্টার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। মূলহোতারা অনেক ক্ষেত্রে দেশের বাইরে থাকলেও বাংলাদেশে স্থানীয় সমন্বয়কারী, প্রযুক্তিকর্মী ও কলাররা কাজ করে। ডিবি ও সিআইডির অভিযানে এমন একাধিক অফিস ও ফ্ল্যাট থেকে কম্পিউটার, মোবাইল, ডিজিটাল ডিভাইস ও বিভিন্ন আলামত জব্দের তথ্য পাওয়া গেছে। বাইরে থেকে আইটি বা কাস্টমার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করা হলেও ভেতরে চলত ঋণ আদায় ও হয়রানির কার্যক্রম। কর্মীদের ড্যাশবোর্ডে ভুক্তভোগীর তথ্য দিয়ে ফোন, হুমকি ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হতো। আদায়ের টাকা পরে বিভিন্ন মিউল অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে প্রতারণার সাম্রাজ্য: তদন্ত ও দেশি-বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবৈধ লোন অ্যাপভিত্তিক প্রতারণা এখন আর কোনো একক দেশের সমস্যা নয়; এটি আন্তঃদেশীয় সাইবার অপরাধচক্রের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, কল সেন্টার পরিচালনা, অর্থপাচার এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা— এই চারটি স্তরে বিভিন্ন দেশের অপরাধীচক্র সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তদন্তে উঠে এসেছে, চীনের কিছু ট্রান্সন্যাশনাল সাইবার সিন্ডিকেট লোন অ্যাপের সোর্স কোড, ম্যালওয়্যার ও সার্ভার পরিচালনায় জড়িত। কম্বোডিয়ার সিহানুকভিলসহ কয়েকটি অঞ্চল আন্তর্জাতিক স্ক্যাম কম্পাউন্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের এনে প্রতারণামূলক কল সেন্টারে কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইকে ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। যেভাবে বিদেশে পাচার হয় প্রতারণার টাকা : সিআইডি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, লোন অ্যাপভিত্তিক প্রতারণার অর্থ পাচারের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা সরাসরি মূল অপরাধীদের হিসাবে না গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা ভুয়া পরিচয়ে খোলা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে জমা হয়, যেগুলোকে তদন্তকারীরা 'মিউল অ্যাকাউন্ট' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরপর অর্থ দ্রুত একাধিক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়, যাতে লেনদেনের উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়। পরবর্তী ধাপে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে অর্থ নগদায়ন অথবা অনানুষ্ঠানিক আর্থিক নেটওয়ার্কে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে এই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশেষ করে ইউএসডিটি এ রূপান্তর করে আন্তর্জাতিক পিয়ার-টু-পিয়ার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাঠানো হয়। সাইবার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অর্থ একবার ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হলে এর চূড়ান্ত গন্তব্য অনুসরণ করা অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে চীন, কম্বোডিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কিছু আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার তথ্যও উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ নতুন লোন অ্যাপ, সার্ভার, ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনায় পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়, ফলে একই চক্র নতুন নামে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। দায় কার, সমাধানই বা কোথায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন বলেন, অপরাধীরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে। এর জন্য গ্রাহকের অসচেতনতা ও প্ল্যাটফর্মগুলোর দুর্বলতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতিও দায়ি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অবৈধ অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ডিজিটাল ঋণ ও অ্যাপভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অপরাধীদের ব্যবহৃত অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বিদেশি ক্লাউড সার্ভারে পরিচালিত হওয়ায় মূল সার্ভার বা ডেটাবেজ বন্ধ করার এখতিয়ার বিটিআরসির নেই। অপরাধীরা আবার নতুন ডোমেইন, ভিপিএন ও তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করে একই সেবা ফিরিয়ে আনছে। ফলে শুধু ব্লক নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে ডিবির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের (দক্ষিণ) যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, অ্যাপে ঋণের নামে হয়রানি করা চক্রগুলোকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে— এ ধরনের প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলে পড়লে কেউ অভিযোগ করেন না বা করতে চান না। অভিযোগ পেলেই ঋণের নামে সক্রিয় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.