জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে দুর্ভোগ

জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে দুর্ভোগ
View on original source
Category: Politics
Share
Archive
Like
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বগুড়ার জমির মালিকরা। অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল পড়ে থাকছে দিনের পর দিন। আর ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত টাকা দিলে দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি করে কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এলএ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে এলএ শাখায় দালালদের দৌরাত্ম্য ও সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এলএ শাখার সামনে অভিযান চালান। অভিযানকালে আলী হোসেন নামে এক দালালকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। জানা যায়, বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখায় প্রতিদিন জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। কেউ ক্ষতিপূরণের চেক নিতে, কেউ ফাইলের অগ্রগতি জানতে, আবার কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে অপেক্ষা করেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া-রহিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের আড়াই শতক জমি ও একটি টিনের স্থাপনা বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁর প্রায় ৭ লাখ টাকা পাওয়ার কথা। আমজাদ বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য কয়েক মাস ধরে এলএ শাখায় ঘুরছেন। একপর্যায়ে তাঁকে জানানো হয়, ক্ষতিপূরণের টাকার ৩ শতাংশ দিলে দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি করে দেওয়া সম্ভব। ফলে দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর বাধ্য হয়ে তিনিও ৩ শতাংশ হারে টাকা দেন। তাঁর দাবি, টাকা দেওয়ার পরই তাঁর ফাইলের গতি বেড়ে যায় এবং কয়েক দিনের মধ্যে চেক পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে দেরি হওয়ার প্রতিটি ঘটনাকে ঘুষের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, কাগজপত্রের অসংগতি, উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা, জমির শ্রেণি নির্ধারণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণেও ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড়তে সময় লাগতে পারে। বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ বা কমিশন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.