Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোর সময়ে বাংলায় আমিষ খাবার নিয়ে বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তিনি দুর্গাপুজোর মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি না করার আবেদন জানান। নবরাত্রির সময়ে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়ার বিরোধিতা করে এমন জায়গা ও ব্যক্তিকে বয়কট করারও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বাঙালি কী খাবেন, তা কোনও ধর্মীয় নেতা বা রাজনৈতিক দল ঠিক করতে পারে না।,এই বিতর্কের মধ্যেই ফের আলোচনায় ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত এই ধর্মীয় বক্তা গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে 'দিব্য দরবার' এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুর জেলার গড়া গ্রামের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত তিনি। ২০২৩ সালে তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে India Today জানিয়েছিল, ধর্মীয় কথক হিসেবে তাঁর উত্থান দ্রুত হয়েছিল এবং তাঁর অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হতে শুরু করেছিলেন।,কীভাবে উত্থান, কীভাবে জনপ্রিয় হলেন?,মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুর জেলার গড়া গ্রামের বাগেশ্বর ধামের সঙ্গে ছোট বয়স থেকেই যুক্ত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠার পর ধীরে ধীরে তিনি কথাবাচক হিসেবে পরিচিতি তৈরি করেন। বাগেশ্বর ধামে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও 'কথা'-র মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। পরে 'দিব্য দরবার'-এর মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।,'দিব্য দরবার'-এর মাধ্যমেই জাতীয় পরিচিতি,ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর 'দিব্য দরবার'-এ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নিজেদের সমস্যা নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানে তিনি ভক্তদের ব্যক্তিগত তথ্য বা সমস্যার কথা আগে থেকে জানতে পারেন বলে দাবি করেন। এই ধরনের অনুষ্ঠানের ভিডিও ও বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর পরিচিতি বাগেশ্বর ধামের বাইরে পৌঁছে যায়। ২০২৩ সালে নাগপুরে তাঁর 'দিব্য দরবার' ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।,ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর কত সম্পত্তি?,ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পত্তির (dhirendra shastri net worth) কোনও সরকারি বা audited net worth প্রকাশ্যে নেই। বিভিন্ন অনলাইন প্রতিবেদন এবং media estimates-এ তাঁর net worth প্রায় ₹১৯–২০ কোটি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অঙ্ককে নিশ্চিত সম্পত্তির পরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় না, কারণ এর পক্ষে কোনও প্রকাশ্য audited financial statement বা সরকারি সম্পত্তির হিসাব পাওয়া যায়নি।,তাঁর আয় নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি প্রকাশিত হয়েছে। India Today-এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বাগেশ্বর ধামের বিভিন্ন পরিষেবা, দর্শনের জন্য token ব্যবস্থা এবং 'দিব্য দরবার'-এর কার্যপদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভক্তরা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশায় তাঁর কাছে আসেন এবং বাগেশ্বর ধামকে ঘিরে স্থানীয় এলাকায় রাস্তা, খাবারের দোকান ও হোটেলের পরিকাঠামোও গড়ে উঠেছে।,'দিব্য দরবার' নিয়ে কেন বিতর্ক?,ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পরিচিতির অন্যতম বড় কারণ তাঁর 'দিব্য দরবার'। সেখানে তিনি ভক্তদের ব্যক্তিগত তথ্য, সমস্যা বা অতীত সম্পর্কে জানার ক্ষমতা থাকার দাবি করেন। এই দাবিকে ঘিরে ২০২৩ সালে মহারাষ্ট্রের যুক্তিবাদী মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।,যুক্তিবাদী শ্যাম মানব প্রকাশ্যে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, শাস্ত্রী যদি তাঁর কথিত ক্ষমতার মাধ্যমে আগে থেকে বেছে দেওয়া কয়েকজন মানুষের নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে বলতে পারেন, তাহলে তাঁকে ₹৩০ লক্ষ দেওয়া হবে। সেই সময় নাগপুরের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। শাস্ত্রী অবশ্য দাবি করেছিলেন, তিনি কোনও চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যাননি এবং অনুষ্ঠানসূচি কমিয়ে অন্যত্র যাওয়ার কারণ ছিল। ২০২৩ সালে কর্ণাটকেও যুক্তিবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ₹১০ লক্ষের চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার দাবিগুলির পরীক্ষা করার কথা বলা হয়।,উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগেও FIR,২০২৩ সালের মার্চে রাজস্থানের উদয়পুরে একটি ধর্মসভায় বক্তব্যের পর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছিল পুলিশ। Times of India-র রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।,শিবাজি মহারাজকে নিয়ে ২০২৬-এ বিতর্ক,চলতি বছর এপ্রিলেও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পর প্রতিবাদ শুরু হয়। Indian Express-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেছিলেন যে শিবাজি মহারাজ যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। মন্তব্যটি ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।,এর আগে ২০২৩ সালে সন্ত তুকারামকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যও মহারাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি করেছিল এবং তাঁর সফরের সময় প্রতিবাদ হয়েছিল। ফলে বাংলায় মাছ-মাংস নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যটি ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ক্ষেত্রে নতুন কোনও বিতর্ক নয়। 'দিব্য দরবার', কথিত অলৌকিক ক্ষমতার দাবি, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই তিনি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচিত। এবার দুর্গাপুজোর সময়ে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তাঁর মন্তব্য সেই বিতর্কের তালিকায় নতুন অধ্যায় যোগ করল।,Disclaimer: ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর ₹১৯–২০ কোটি net worth সংক্রান্ত প্রকাশিত estimates-এর সত্যতা Times Now Khobor যাচাই করেনি। এই তথ্য বিভিন্ন প্রকাশিত media report/online publication-এর দাবির ভিত্তিতে দেওয়া হল। একইভাবে তাঁর আয় বা দক্ষিণা সংক্রান্ত কোনও অঙ্ককেও audited বা সরকারি তথ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না।
(0)Comments