জোড়া খুনের আসামিকে বাঁচাতে বাদী-সাক্ষীর নামে অপহরণ মামলা!

জোড়া খুনের আসামিকে বাঁচাতে বাদী-সাক্ষীর নামে অপহরণ মামলা!
View on original source
Category: Politics
Share
Archive
Like
তিন বছর আগে মো. সুমন নামে এক মাদকাসক্ত যুবক তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জোড়া খুনের এ মামলাকে প্রভাবিত করতে ঘাতক সুমনের ভাতিজাকে 'অপহরণ' নাটক সাজিয়ে বাদী মো. জুয়েল ও সাক্ষী মো. মিলনকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অপহরণের ঘটনাটি সাজানো। জোড়া খুন মামলাটিকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে ঘাতক সুমনের ভাই জয়নাল আবেদীন তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন। পরে মামলা দিয়ে জুয়েল ও মিলনকে গ্রেপ্তার করিয়েছেন। তারা এখন জেলা কারাগারে রয়েছে। তবে সাজানো ঘটনায় মামলা দিয়ে জুয়েল ও মিলনকে গ্রেপ্তারে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জুয়েল ও মিলনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানিয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের লম্বাখালী এলাকায় এ মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান হেলাল, বিএনপি নেতা কাজল পঞ্চায়েত, সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার, জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন উদ্দিন রাসেল, রামগতি উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল পঞ্চায়েত, যুবদল নেতা খবির হোসেন, ছাত্রদল নেতা মেজবাহ উদ্দিন, জুয়েলের মা আংকুরি বেগম ও চাচি আকলিমা বেগম। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চরবাদাম ইউনিয়নের চরকলাকোপা গ্রামে মো. সুমন নামে মাদকাসক্ত এক যুবক তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার (২২) ও তার শ্বশুর বাদশা মিয়াকে (৫০) কুপিয়ে হত্যা করেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শ্বাশুড়ি আংকুরি বেগমও গুরুতর আহত হন। পরদিন বাদশার ছেলে মো. জুয়েল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ঘাতক সুমন বর্তমানে কারাগারে। আসামি সুমন সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত নেছার আহম্মদের ছেলে। সুমনের শ্বাশুড়ি আংকুরি বেগম বলেন, সুমন আমার স্বামী ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সেইদিন আমিও আহত হই। আমার ছেলে জুয়েল বাদী হয়ে মামলা করে। এরপর মামলাটি তুলে নিতে বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেখানো হয়। কিন্তু আমরা রাজি হইনি। এজন্য জয়নাল তার ছেলেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে জুয়েল ও মিলনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। তারা নির্দোষ। কেবল হত্যা মামলাকে প্রভাবিত করতেই অপহরণের ঘটনায় তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক ও আতাউর রহমান হেলাল জানান, মাদকাসক্ত সুমন তার শ্বশুর বাদশা ও রাশেদাকে কুপিয়ে হত্যা করে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি প্রত্যাহারে ব্যাপক চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পারেনি। এখন অপহরণের নতুন নাটক সাজিয়ে মামলার বাদি জুয়েল ও মিলনকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। তাদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। রামগতি থানা পুলিশ জানায়, ২৮ আগস্ট রাতে রামগতি উপজেলার পুরান কলোনী ব্রিজ এলাকা থেকে সৌরভ হোসেন নামে এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সৌরভের বাবা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর বাদি হয়ে রামগতি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। সৌরভের বাড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর এলাকায়। সৌরভ ঘটনাস্থলে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। তাকে অপহরণের অভিযোগের মামলায় জুয়েল ও মিলনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে অপহরণ মামলার বাদি জয়নাল আবেদীনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, অপহরণের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে, তাই মামলা ও আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের সঙ্গে পূর্বের বিরোধ থেকেই এমনটা হতে পারে। মামলাটি নিয়ে আমাদের অধিকতর তদন্ত চলছে। কারও যদি কোনো আপত্তি থাকে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখব। বিপি/এনএস

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.