তবু অব্যবহৃত কেন

তবু অব্যবহৃত কেন
View on original source
Category: Politics
Share
Archive
Like
নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্ত খাঁ সড়কের পাশে সুবিশাল, নান্দনিক এবং আট তলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) ভবন। আট বছর আগে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ভবনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্মলিত। কিন্তু ভবনটিতে এক দিনের জন্যও যেন বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। ফলে অযত্ন-অবহেলা আর অকার্যকর অবস্থায় ফেলে রাখায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হতে বসেছে। যখনই এ ভবনটিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারকি কার্যক্রম স্থানান্তর করার ব্যাপারে আলাপ আলোচনা শুরু হয় তখনই নানা প্রতিবন্ধতায় আটকে যায়। বিশেষ করে আইনজীবীরা কোনোভাবেই চান না যেন বিচারকি কার্যক্রম শুরু করা হোক। জানা যায়, এক সময় শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কে একই ভবনে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক কার্যক্রম চলত। পরে চাঁদমারী এলাকায় তা স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভবন থাকলেও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণ করা হয়নি। পরে সেখানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভবন ও জেলা আদালত ভবনের একটি অংশে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকি কার্যক্রম শুরু করা হয়। যা এখনো চলমান। এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ৬৪ জেলায় পৃথক ও নতুন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাশে জমি না পাওয়ায় শায়েস্তা খাঁ সড়কেই নির্মাণ করা হয় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন। ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালে ভবনটি নির্মাণকাজ শেষ করার পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তরও করে বাস্তবায়নকারী এ সংস্থাটি। কিন্তু পরে আইনজীবীরা আপত্তি জানালে এ ভবনে বিচার কার্যক্রম স্থানান্তর করা যায়নি। আইনজীবীদের ভাষ্য, সিজেএম ভবনটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। দেশের প্রায় সব জেলাতেই জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একই কম্পাউন্ডে বা কাছাকাছি থাকলেও নারায়ণগঞ্জে দুই ভবনের দূরত্ব বিচারিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাবে। এদিকে কোটি কোটি টাকার এ ভবনটি অব্যহৃত হিসেবে পড়ে থাকায় ভিতরের লাইট, ফ্যান ও অন্যান্য জিনিসপত্র অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। করোনা মহামারির সময়ে নমুনা পরীক্ষার কাজে এ ভবনের একটি অংশ ব্যবহার করা হলেও পরে সেটি আবারও ফাঁকাই পড়ে থাকে। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা কোনোভাবেই ওই ভবনে যেতে রাজি না। ওই ভবনে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম স্থানান্ত করা হলে শুধু আইনজীবীরা নয় পুরো নারায়গঞ্জবাসীর ভোগান্তি হবে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, এখন বিভিন্ন কারণেই আইনজীবীরা এখানে আসতে চাচ্ছেন না। তাঁর অভিমত সরকারের অনেকগুলো শাখা যারা বিভিন্ন জায়াগা ভাড়া করে অফিস কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাঁদের এখানে নিয়ে আসা যেতে পারে। আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আইনজীবীদের একই দিনে বিভিন্ন কোর্টে বিভিন্ন মামলা থাকে। নারায়ণগঞ্জে ফ্যাসিস্টদের টানাটানির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতিগ্রস্তের হাত থেকে নারায়ণগঞ্জবাসাী কীভাবে মুক্তি পাবে সেই চেষ্টা করছি। এখানে যেন সরকারি হাসপাতাল অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করা হয় সেই প্রচষ্টা করব। এ সরকারের আমলে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে আশা করি।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.