চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর মধ্য দিয়ে এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় অধিবেশন উদ্বোধন করবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে আসছেন দ্বিতীয় কোনো বাংলাদেশি।
এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
গত ২ জুন সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন খলিলুর রহমান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকুরিস পান ৯১ ভোট।
এবারের দায়িত্ব এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংঘাত, জলবায়ু সংকট, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট চলছে। ফলে সাধারণ পরিষদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করাই হবে খলিলুর রহমানের বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।
বাংলাদেশের জন্য এই দায়িত্বের বড় একটি সুযোগ হতে পারে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতেও সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগাতে পারে ঢাকা।
শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা তাঁর অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে খলিলুর রহমানের সভাপতির মেয়াদেই জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। ফলে সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে একজন বাংলাদেশি এবং অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের উপস্থিতি—দুই দিক থেকেই এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের গুরুত্ব থাকবে বেশ দৃশ্যমান।
(0)Comments