মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ

মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ
View on original source
Category: Politics
Share
Archive
Like
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে নজিরবিহীন প্রশাসনিক শূন্যতা ও চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা একযোগে আত্মগোপনে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ, আর নাগরিক সেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পাঁচ চেয়ারম্যান হলেন ১নং রঘুনাথপুর ইউনিয়নের আবু সাঈদ, ২নং আমরাজুড়ি ইউনিয়নের মো. জাহাঙ্গীর মুন্সী, ৩নং কাউখালী সদর ইউনিয়নের মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ৪নং চিড়াপাড়া পার সাতুরিয়া ইউনিয়নের লাইফুজ্জামান মিন্টু এবং ৫নং শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের গাজী সিদ্দিকুর রহমান। চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতির বিষয় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ নিত্যদিনের জরুরি সেবা নিতে এসে তারা ইউপি ভবনে কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না। চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও সরকারি সুবিধাভোগীদের ভাতা বিতরণ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে ক্ষমতার টানাটানি ও অসন্তোষ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইন ও বিধিবিধান উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান বসানো এবং কার্যক্রম চালানো নিয়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৪নং চিড়াপাড়া পার সাতুরিয়া ইউনিয়নের সব ইউপি সদস্য (মেম্বার) ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউপি সদস্যদের দাবি, সরকারি নীতিমালা না মেনে মনগড়াভাবে পরিষদ চালানো হচ্ছে। দ্রুত বিধিমালা অনুসরণ করে বৈধ প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের মাধ্যমে পরিষদ পরিচালনার দাবি জানান তারা। গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশ এর কাউখালী উপজেলার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম বলেন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, অনুমতি ব্যতীত টানা অনুপস্থিত থাকলে পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ বা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের ক্ষোভ নতুন সরকার আসার পর থেকেই চেয়ারম্যানের অনুপস্থিত থাকলেও উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কাউখালী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল হোসেন এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসনে অবিলম্বে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। কাউখালী সদর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ বরাল জানান, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চেয়ারম্যান নিয়মিত কার্যালয়ে না আসায় দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনায় তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে পিরোজপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাহমুদুর রহমান মামুন জানান, কাউখালী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মেয়াদ এরইমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং সেখানে নতুন প্রশাসক নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ৫নং শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মেয়াদ বাকি থাকলেও তিনি চার মাস ধরে পলাতক রয়েছেন। এই বিষয়টি তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.