আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপজেলাভিত্তিক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে একটি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত সবকটি ইউনিয়ন পরিষদে একইসঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য জানান।
ইসি সচিব জানান, ইউপি নির্বাচন একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এটি পাঁচ নাকি ছয় ধাপে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতেই মূলত উপজেলাভিত্তিক নির্বাচনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এক ধাপে এবং বাকিগুলোতে অন্য ধাপে ভোটগ্রহণ করা হলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই একই উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে একযোগে ভোট হবে। নির্বাচনের চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার সময়সূচি সংক্রান্ত প্রশ্নে সচিব বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে কমিশন নির্ধারণ করবে তবে এই মুহূর্তে তার কাছে তফসিলের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনী বিধিমালার সম্ভাব্য সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরে আখতার আহমেদ আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহারের বিধান না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে এই বিধিমালায় আরো কিছু সংস্কার আনা হয়েছে, যা পুরোপুরি পর্যালোচনার পর স্পষ্টভাবে বলা যাবে।
ইসি জানান, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের কাজ সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে 'ডিজিটাল অ্যাক্রিডিটেশন ও কার্ড ইস্যুয়েন্স সফটওয়্যার' তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয় রূপরেখা (এসআরএস) চূড়ান্ত করতে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে আহ্বায়ক এবং জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকারকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই আমরা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবো।
এছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন আচরণবিধিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য আলাদা আলাদা আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়েছে। অবশ্য আলাদা হলেও সব কটি আচরণবিধি প্রায় অভিন্ন। এবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হবে নির্দলীয়। তাই নতুন করে আচরণবিধিমালা তৈরি করেছে ইসি। দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও ইসি এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আচরণবিধি জারি করা হলো। যেমন গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারের ভোটের প্রচারেও পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও বিলবোর্ড প্রচারণা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে কোন পরিমাপের প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো, চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য বা ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধকরা হয়েছে। অনলাইন প্রচারণার আগে অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জমা দিতে হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পিআইডি'র প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন, আরএফইডি'র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ-দৌলাসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ###
(0)Comments