ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিসের অদৃশ্য যোগসূত্র

ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিসের অদৃশ্য যোগসূত্র
View on original source
Category: Health
Share
Archive
Like
বাংলাদেশে ডায়াবেটিস ও চর্বিযুক্ত লিভার-দুটি রোগই দ্রুত বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয়, এই দুই রোগ একে অন্যকে বাড়িয়ে তোলে, আবার একসঙ্গে থাকলে জটিলতাও দ্বিগুণ হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে চর্বিযুক্ত লিভারকে এখন বলা হয় MASLD (Metabolic dysfunction–Associated Steatotic Liver Disease)। এটি শুধু লিভারের রোগ নয়; বরং পুরো শরীরের বিপাকীয় সমস্যার প্রতিচ্ছবি। আর ডায়াবেটিস হলো সেই বিপাকীয় সমস্যার সবচেয়ে বড় প্রকাশ। তাই MASLD ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে আজ 'জোড়া নীরব ঘাতক' বলা হয়। ফ্যাটি লিভার কীভাবে তৈরি হয় আমাদের লিভার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। অতিরিক্ত ক্যালরি, চিনি, ভাজাপোড়া খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং পেটের মেদ বাড়লে লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে। প্রথমে কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই চর্বি লিভারে প্রদাহ তৈরি করে, লিভার শক্ত হয়ে যায় (ফাইব্রোসিস) এবং শেষ পর্যন্ত সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- বাংলাদেশে অনেক মানুষই জানে না যে তাদের লিভারে চর্বি জমেছে। ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক ডায়াবেটিস ও MASLD একই মূল সমস্যার ফল-ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারলে রক্তে গ্লুকোজ বাড়ে, আবার একই কারণে লিভারে চর্বিও জমে। তাই যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের মধ্যে MASLD হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। আবার MASLD থাকলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় ৭০-৮০%-এর লিভারে চর্বি থাকে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো-ডায়াবেটিস ও MASLD একসঙ্গে থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি রোগ এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। উপসর্গ নেই, তবু রোগ বাড়ে চর্বিযুক্ত লিভারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এটি উপসর্গহীন। অনেক সময় হালকা ক্লান্তি, পেটের ডান পাশে ভারী লাগা বা লিভার এনজাইম বাড়া ছাড়া আর কিছুই বোঝা যায় না। তাই নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়া রোগ ধরা কঠিন। শনাক্তকরণ : * আল্ট্রাসনোগ্রাফি * রক্ত পরীক্ষা (ALT/AST), FIB4 স্কোর * প্রয়োজন হলে FibroScan ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে অন্তত একবার লিভার পরীক্ষা করা উচিত। চিকিৎসা : চর্বিযুক্ত লিভারের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো জীবনধারা পরিবর্তন। * ওজন ৫-১০% কমালে লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে * প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা * মিষ্টি, সফট ড্রিংকস, ভাজাপোড়া কমানো * কম ক্যালরিযুক্ত শর্করা, শাকসবজি, মাছ, বাদাম বেশি খাওয়া * ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা * প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ (যেমন GLP 1 RA, Pioglitazone) কখন ডাক্তার (হরমোন বিশেষজ্ঞ) দেখাবেন? * ALT/AST বারবার বেশি * ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ খারাপ * পেটের ডান পাশে ব্যথা * ওজন দ্রুত কমে যাওয়া * চোখ বা পা ফুলে যাওয়া মোদ্দাকথা, চর্বিযুক্ত লিভার ও ডায়াবেটিস- দুটিই নীরবে বাড়ে, কিন্তু সময়মতো ধরা পড়লে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জীবনধারা পরিবর্তন, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সচেতনতা-এই তিনটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। -ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.