দেশের পোশাক খাতে ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ

দেশের পোশাক খাতে ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ
View on original source
Category: Financial
Share
Archive
Like
একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় জুলাই মাসে ১১ শতাংশের মতো কমেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এদিকে, রপ্তানি আয় আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এটাকে উদ্বেগজনক বলছেন তারা। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাংলাদেশ সেখানকার বাজারে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ৪৯৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের 'অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল' (অটেক্সা) সাত মাসের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে জুলাইয়ের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩ কোটি দুই লাখ ডলারের, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। শতকরা হিসাবে কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। একই মাসে ভারতের কমেছে ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ; চীনের কমেছে ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের কমেছে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন কার্যালয়— অটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের; ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ভারতের কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। পাকিস্তান, মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের কমেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬০, ১০ দশমিক ৫০ ও ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। রপ্তানি বেড়েছে কম্বোয়িার ও ইন্দোনেশিয়ার। কম্বোয়িার বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা গত জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম সাত মাসে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। ২০২২ সালে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি তার আগের বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে উঠেছিল। কিন্তু পরের বছর তা ২৫ শতাংশ কমে যায়। ওই বছরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৭২৯ কোটি ডলার। ২০২৪ সালে অবশ্য সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলার হয়; শতকরা হিসাবে বেড়েছিল দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে বেড়েছিল ১২ শতাংশের মতো; রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮২০ কোটি ডলার। নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন— বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান গণমাধ্যমকে জানান, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা তো ছিলই। গ্যাসের তীব্র সংকট শুরু হয়েছে ২১ জুলাই থেকে। গ্যাস সমস্যার কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বন্ধই ছিল বলা যায়। এ সময়ে আমরা মিলগুলো থেকে কোনো কাপড় পাইনি। পোশাক তৈরি করতে পারিনি; রপ্তানিও হয়নি। তার প্রভাব আমাদের প্রধান বাজার আমেরিকাতেও পড়েছে।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.