ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৈরি পোশাকের ফেব্রিকস ঘোষণার আড়ালে আনা ১ হাজার ৬৫৫টি অবৈধ মোবাইল ফোনের একটি বড় চালান জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কাপড়ের রোলের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের এসব মুঠোফোনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট ইউনিটে আসা পণ্য পরীক্ষার সময় জালিয়াতির এ ঘটনা ধরা পড়ে। ঢাকা কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান চালানটি জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কাস্টমস ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চালানটির আমদানিকারক হিসেবে নাম রয়েছে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেড'। হংকং থেকে গত ৩১ আগস্ট আরএইচ-৬৬৫১ ফ্লাইটে ২০টি প্যাকেজে প্রায় ৮৯৫ কেজি ওজনের চালানটি শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নথিপত্রে পণ্যের বিবরণ হিসেবে 'নিট ফেব্রিকস' উল্লেখ থাকলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা কার্গো স্ক্যান ও কায়িক পরীক্ষার সময় কাপড়ের রোলের ভেতরে লুকানো বিপুল পরিমাণ মুঠোফোন দেখতে পান।
জব্দ করা ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি রেডমি ১৪সি মডেল, ১৫০টি রেডমি ১৫সি মডেল এবং পুরোনো আইফোনসহ বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি হ্যান্ডসেট। চালানটির মাস্টার এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৮২৮-৫৬৭৮-২৪১২ এবং হাউস এয়ারওয়ে বিল নম্বর জিএল ৫৭২০৩। নথিপত্র অনুযায়ী, চালানের রপ্তানিকারক চীনের প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং শাওশিং সিনহুয়া নিটিং কোম্পানি এবং লজিস্টিকস ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার হিসেবে যুক্ত ছিল জ্যাঙ্কো গ্লোবাল লজিস্টিকস লিমিটেড ও এফ এফ কার্গো সার্ভিস।
শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ঘোষণায় আনা এসব মুঠোফোনের সুনির্দিষ্ট আমদানি মূল্য, ব্যবহৃত ও নতুন ফোনের অনুপাত, প্রতিটি হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর এবং ফাঁকি দেওয়া রাজস্বের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে যাচাই-বাছাই চালাচ্ছে কাস্টমস। একই সঙ্গে চালানটির প্রকৃত সুবিধাভোগী ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
(0)Comments