ভারতে দীর্ঘদিনের গৃহকর্মীকে কঠিন ব্যক্তিগত সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন আবির তাবাখি নামে হংকংয়ের এক নারী। মরিয়ম নামের ওই গৃহকর্মীর জন্য চালু করা ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইনে এরই মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ রুপি সংগ্রহ হয়েছে।
মঙ্গলবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে তহবিল সংগ্রহের সেই গল্পটি তুলে ধরা হয়েছে।
তাবাখি 'গো ফান্ড মি' তে এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। সেখানে তিনি মরিয়মের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, দায়িত্বশীলতা ও নিঃস্বার্থ সেবার কথা তুলে ধরে বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অপরিচিতদের কাছ থেকেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার আহ্বান জানান।
ক্যাম্পেইনের বিবরণে বলা হয়েছে, মাত্র ৫ বছর বয়সে যে পরিবার মরিয়মকে দত্তক নেয়, সেখানে তাকে বছরের পর বছর গৃহস্থালির কাজ করতে হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, পরিবারটি তার যথাযথ যত্ন নেয়নি এবং তার উপার্জনের অর্থও বিভিন্নভাবে নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছে।
ক্যাম্পেইনে আরও বলা হয়, মরিয়মের উপার্জনের বড় অংশ পরিবারের সদস্যরা নিয়ে নিতেন। কখনো সেটিকে 'ধার' হিসেবে নেওয়া হলেও সেই অর্থ আর ফেরত দেওয়া হতো না।
এ ছাড়া ভুলের জন্য তাকে সহযোগিতা বা দিকনির্দেশনার পরিবর্তে শাস্তি দেওয়া হতো বলেও দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি এখনো সেই অভিজ্ঞতার মানসিক প্রভাব বহন করছেন বলে ক্যাম্পেইনে উল্লেখ করা হয়।
ক্যাম্পেইনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতন থেকে বেরিয়ে আসার পর মরিয়মের নিজের কোনো স্থায়ী বাড়ি নেই। বর্তমানে তিনি হংকংয়ে তাবাখির পরিবারের সঙ্গে থাকছেন। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা ব্যয়ও রয়েছে।
মরিয়মের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এখন নিজের একটি বাড়ি, যেখানে তিনি নিরাপদে থাকতে পারবেন এবং নিজের মতো করে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন।
তাবাখির উদ্যোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মরিয়মের গল্পে আবেগাপ্লুত হয়ে তহবিলে অর্থ সহায়তা দিতে শুরু করেন।
শুরুতে সীমিত পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রচুর মানুষ এতে যুক্ত হন। একপর্যায়ে সংগৃহীত অর্থ প্রায় ৪৭ লাখ রুপিতে পৌঁছে যায়।
মরিয়মের দীর্ঘদিনের কষ্টের গল্প এবং তাকে নতুন করে নিজের জীবন গড়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিতে তাবাখির এই উদ্যোগ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিকতার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
(0)Comments