পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৮ সেপ্টেম্বর: তৃণমূল সরকারের আমলে সাংসদদের 'হাত খুলে' কাজ করার সুযোগ ছিল না। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া হতো, এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। একইসঙ্গে কলাইকুণ্ডায় বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নিয়েও পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জমি না দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে সেই জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং আগামী বছরের শুরুতেই মিলতে পারে সুখবর।
মেদিনীপুরে জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে এই মন্তব্য করেন সাংসদ জুন মালিয়া। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত- সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
জুন মালিয়ার অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে সাংসদদের কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত করা হলেও বাস্তবে সেই প্রকল্পগুলি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতো। তাঁর কথায়, সাংসদ হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সবসময় সেই সুযোগ পাওয়া যেত না। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন কলাইকুণ্ডায় বিমানবন্দর তৈরির প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। জুন মালিয়া জানান, কলাইকুণ্ডায় বিমানবন্দর তৈরির বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি তৎকালীন রাজ্য সরকার না দেওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকারের আমলে কলাইকুণ্ডা বিমানবন্দর প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই এই প্রকল্প নিয়ে বড়সড় সুখবর মিলতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিমা যোজনা কার্ড বেশ কয়েকজন উপভোক্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন সাংসদ। একইসঙ্গে রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও অভিনন্দন জানান তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একদিকে যখন কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুললেন জুন মালিয়া, অন্যদিকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসাও শোনা গেল তাঁর মুখে। ফলে রাজনৈতিক মহলে তাঁর এদিনের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
মেদিনীপুরের সাংসদের বক্তব্যে কার্যত পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং বর্তমান সরকারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব, দুই দিকই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কলাইকুণ্ডা বিমানবন্দর প্রকল্প নিয়ে তাঁর দেওয়া আশ্বাস আগামী দিনে কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেদিকেই এখন নজর মেদিনীপুরবাসীর।
(0)Comments