আরও পাঁচটি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন ও দুটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন। পরে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়।
এদিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের না রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে চিফ হুইপকে অনুরোধ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, সংসদীয় রীতি ও চর্চা অনুযায়ী এসব কমিটির সভাপতি হওয়া উচিত সংসদের সাধারণ সদস্যদের (প্রাইভেট মেম্বার)। আর মন্ত্রীরা সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সদস্য থাকবেন।
আজ জাতীয় সংসদে পাঁচটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং দুটি কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের পর স্পিকার এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, 'সংসদের চেতনা ও চর্চা হলো—একটি কমিটির সভাপতি হবেন একজন সাধারণ সদস্য, আর মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদার ব্যক্তিরা সদস্য থাকবেন।'
তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকটি কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের সদস্য করা হয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান।
স্পিকার বলেন, 'এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংসদের চেতনা ও চর্চা হলো, এসব পদে সাধারণ সদস্যরা থাকবেন এবং মন্ত্রী সদস্য থাকবেন। ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের সময় বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।'
এর আগে কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয় কয়েকজন হুইপকে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয় হুইপ রাকিবুল ইসলাম বকুলকে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয় আখতারুজ্জামান মিয়াকে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয় জিকে গাউসকে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রয়েছেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তবে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হওয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সাধারণত তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সদস্য হন, অন্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সদস্য নন।
আরও ৫ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
আজ যে পাঁচটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলো হলো—সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মো. শাহজাহানকে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে। আর রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মোহাম্মদ আলী আসগর লবিকে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এস এম রফিকুল ইসলামকে।
এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত দুটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিতে এ কে এম ফজলুল হক মিলন ও মুনশি রফিকুল আলমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মজহারুল ইসলাম ও ফরিদুল কবির তালুকদার।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিতে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন একই দলের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান।
মঙ্গলবারের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ৪৫টি গঠিত হলো। এর মধ্যে ৩৬টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত এবং নয়টি বিষয়ভিত্তিক স্থায়ী কমিটি।
এখন পর্যন্ত গঠিত কোনো মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে করা হয়নি। নয়টি বিষয়ভিত্তিক কমিটির মধ্যে শুধু সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির (পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি) চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যকে।
(0)Comments