হিন্দু ধর্মীয় দলের সফরের সময় লিঙ্গ-বৈষম্যের অভিযোগ, প্রতিবাদে ধর্মঘট, বন্ধ থাকল প্যারিসের আইফেল টাওয়ার

হিন্দু ধর্মীয় দলের সফরের সময় লিঙ্গ-বৈষম্যের অভিযোগ, প্রতিবাদে ধর্মঘট, বন্ধ থাকল প্যারিসের আইফেল টাওয়ার
View on original source
Category: Politics
Share
Archive
Like
প্যারিস: রবিবারই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্যারিসে বিএপিএস স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন। আর সোমবার সেই বিএপিএস-এর একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময় স্থানীয় নারী কর্মীদের কাজ থেকে সরিয়ে রাখা ও তাঁদের উপস্থিতি সীমিত করার নির্দেশ ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় ফ্রান্সে বন্ধ করে দেওয়া হল প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী আইফেল টাওয়ার। এই ঘটনায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির বিরুদ্ধেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শনিবার বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা (বিএপিএস)-এর একটি প্রতিনিধি দল ব্যক্তিগত সফরে আইফেল টাওয়ারে যায়। ট্রেড ইউনিয়নের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে নারী কর্মীদের কর্মস্থল ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়, অনেকক্ষেত্রে পুরুষ কর্মীদের তাঁদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় এবং বিশেষ কিছু এলাকা পারাপার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবারে আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন ও কর্মবিরতি পালন করেন, যার ফলে পর্যটকদের জন্য পুরো দিনই বন্ধ থাকে বিখ্যাত এই স্মারকটি। ইউনিয়ন প্রতিনিধি ডায়ান ডাভোইন সংবাদ সংস্থাকে জানান যে, এভাবে নারী কর্মীদের সরিয়ে অন্য জায়গায় পাঠানো অত্যন্ত অপমানজনক ছিল। কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্যমূলক এমন আচরণের প্রতিবাদে ও ভবিষ্যতে যেন কোনো নারী কর্মী এমন পরিস্থিতির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রতিবাদ সভা ও ধর্মঘট ডাকেন তাঁরা। তবে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার জন্য কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আরও পড়ুন-বিনামূল্যে কোচিং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ কেন্দ্র, সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট অন্যদিকে বিএপিএস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাধারণ দর্শনার্থীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্যই তাঁদের বড় দলটি সকাল সকাল সফরটি সেরেছিল। কাউকে আইফেল টাওয়ারে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কোনো অভিপ্রায় তাঁদের ছিল না উল্লেখ করে অনিচ্ছাকৃত এই অস্বস্তির জন্য তারা আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে। আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা 'সোসাইটি ডি'এক্সপ্লোইটেশন দে লা ট্যুর আইফেল' স্বীকার করেছে যে প্রতিনিধি দলটির পক্ষ থেকে নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করার অনুরোধ করা হয়েছিল, যা মেনে নেওয়া একদমই উচিত হয়নি। পরিচালনা পর্ষদ নিশ্চিত করেছে যে এই শর্তগুলো তাদের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধ ও লিঙ্গসমতার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল এবং তারা এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার এই ধর্মঘটকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন এবং এটিকে অত্যন্ত অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন। একই সাথে ফ্রান্সের লিঙ্গসমতা বিষয়ক মন্ত্রী অরোরে বার্জ, উগ্র দক্ষিণপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গাব্রিয়েল আতাল প্রত্যেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ফ্রান্সে কোনো ধর্ম, সংস্কৃতি বা মতাদর্শের ভিত্তিতে নারীদের অবস্থান ও স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না। গোটা ঘটনায় ক্ষোভের মুখে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তাদের নারীবিদ্বেষী মানসিকতার কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.