ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমাতে দেশের আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষার সুবিধা থাকবে। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে হাসপাতালগুলো নির্মাণের কাজ বর্তমানে এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত এই হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসার সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, ডে-কেয়ার বেড এবং আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী বলেন, এসব হাসপাতাল চালু হলে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।
সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সরকারি ক্যান্সার হাসপাতাল। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের পাশাপাশি দেশের প্রায় সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে অনকোলজি বা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য পৃথক ইউনিট রয়েছে।
বেসরকারি খাতের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ২৪টি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতাল ও আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি স্কয়ার, এভারকেয়ার, ল্যাবএইড ও ইউনাইটেডসহ বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার পৃথক ইউনিট রয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মানসম্মত, আধুনিক ও সুলভ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ক্যান্সার চিকিৎসাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন হাসপাতালগুলো নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য।
(0)Comments