কলকাতা : বাগেশ্বর ধামের প্রধান সন্ত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুরের কোড়া গ্রামে গুরুকুল আর গোশালা তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। অভিযোগ, তার জন্য জোর করে কম দামে জমি দিতে বাধ্য করা হয়েছে। কেউ রাজি না হলে রাতারাতি দখল করে নেওয়া হয়েছে জমি। যদিও, বাগেশ্বর বাবার দাবি, তাঁর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের এখন আর কোনও সম্পর্ক নেই।
পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী - মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুরের বাগেশ্বর ধামের প্রধান সন্ত। স্বঘোষিত অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। অনুগামীদের কাছে বাগেশ্বর ধাম সরকার। দেশে, বিদেশে অসংখ্য ভক্ত, বাবাজির বাণী তাঁদের কাছে শেষ কথা। তবে যে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী দুর্গাপুজোর সময় খাওয়া-দাওয়া নিয়ে এখন বাঙালিকে এত পাঠ দিচ্ছেন, তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধেই নানা সময় মারাত্মক সব অভিযোগ উঠেছে।
দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাঙালিকে 'ফতোয়া' দেওয়া বাগেশ্বর বাবার নামে অতীতেও ভূরি ভূরি অভিযোগ
জমি জবরদখল, হুমকি, রাস্তা দখল, এমনকী গুলি চালানোর অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে এই বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুর জেলার রাজনগর থানা এলাকা। এখানেই গঢ়া গ্রামে বাগেশ্বর ধাম। তার পাশেই রয়েছে কোড়া গ্রাম, যেখানে বাগেশ্বর ধামের গুরুকুল আর গোশালা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, ১৪ জুলাই সেই গ্রামেই জমি বিবাদের জেরে গুলি চলে। গ্রেফতার হন ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর ভাই শালিগ্রাম গর্গ। আর এই ঘটনার পরই বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্য়কর সব অভিযোগ সামনে আসে।
গুলিবিদ্ধ হওয়া মোতিলাল কুশওয়াহার অভিযোগ, 'আবেদন দিয়েছিলাম থানায়। কেন গিয়েছিলে? বলছে প্রাণে মেরে দেব তোমাকে, যদি কারও পাশে দাঁড়াও। দখল করবে, কিনবে, কেউ যদি বলে আমি দেব না, ৩ কোটি দাও, ৪ কোটি দাও। তখন জবরদস্তি বলবে তোমাকে দিতেই হবে। আগে এক একর জমি ছিল, যখন ওর বোনের বিয়ে হয়। এখন রেকর্ড দেখুন, ২ ভাইয়ের নামে ১ হাজার একর জমি বেরোবে।' অভিযোগ, জোর করে কম দামে জমি দিতে বাধ্য করা হয় গ্রামবাসীদের। রাজি না হলে রাতারাতি দখল করে নেওয়া হয় জমি। স্থানীয় এক বাসিন্দা এও অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের বলা হতো, 'মন থেকে দিলে দাও, নাহলে জমি ঠিকই নিয়ে নেব।' ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে অনেকেরই জমি জবরদখল করার অভিযোগ উঠেছে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে। কমলেশ কুশওয়াহা, বাসিন্দা, কোড়া গ্রাম, ছত্তরপুর, মধ্যপ্রদেশ - এই ব্যক্তির অভিযোগ, 'ওঁরা জমি দেয়নি। তারপর একদিন রাতে জেসিবি এনে, লোকজন এনে রাতারাতি পিলার তৈরি করে দেয়। সকালে পাণ্ডে পরিবার এসে দেখে যে, একী হল... পুরো জমি তো দখল হয়ে গেছে, পিলার তৈরি হয়ে গেছে।' শুধু জমি নয়, রাস্তা পর্যন্ত দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিক্রিয়ার জন্য ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি 'বাগেশ্বর বাবা'।
(0)Comments