বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক নেতার মারধরের ঘটনার জেরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ির কাচ ও একটি হল কক্ষের জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রশিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজে কয়েকজন শিবিরকর্মীকে প্রক্টরের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। ঘটনাটি গত শনিবার ঘটলেও গতকাল এর সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, 'গেটের (জিয়াউর রহমান হল) একটু সামনে পৌঁছাতেই ছেলেপেলে ইট-পাটকেল মারায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।' এদিকে প্রক্টরের গাড়িতে হামলার সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, 'প্রক্টরের গাড়িতে হামলা তৃতীয় কোনো পক্ষ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমাদের কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল নেতা আলীনূর শিবির নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিবিরকর্মীরা হলে আসেন। এ সময় আলীনূর হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওই কক্ষের দিকে গিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে ওই সময় কক্ষের সামনে এইচআরএম বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মারুফ, অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাইমুর রহমানসহ কয়েকজন শিবিরকর্মীকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। অন্য কয়েকজনকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে কে জানালার কাচ ভেঙেছেন, তা ভিডিওতে দেখা যায়নি। পরে আলীনূরকে উদ্ধারের সময় প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা যায়, হলের প্রধান ফটক পেরিয়ে গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন শিবিরকর্মী আলীনূরকে মারধর করছেন। পরে টানাহেঁচড়া করে তাকে গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িটি কিছুদূর এগিয়ে গেলে ডান দিক থেকে শিবিরকর্মী নাইম ইসলামকে গাড়িতে ইট এবং শাকিল আহমেদকে বোতল ছুড়ে মারতে দেখা যায়। একই সময়ে আরও কয়েকজনকে গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। ২১৭ নম্বর কক্ষে থাকা ছাত্রদল কর্মী তাহসিন জিম বলেন, 'শিবিরের ১০-১৫ জন আমার রুমের দিকে এসে অতর্কিত হামলা দেখে ভয়ে দরজা লাগিয়ে দিই।
এরপর তারা দরজায় লাথি মারতে থাকে। পরে তারা রুমের জানালার কাচ ভাঙে। ব্যালকনিতে হোসনে মোবারক নামে এক ছেলে ইট মারে। একটা আমার হাতে লেগে ক্ষতের সৃষ্টি হয়।' এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী নাইম ইসলাম বলেন, 'ওখানে হুড়োহুড়ি চলছিল। তখন ইট মেরেছি কি মারিনি-কিছুই মনে নেই।' আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শিবির কর্মী শাকিল আহমেদ বলেন, 'আমি প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভাঙার সঙ্গে জড়িত নই। আমি গাড়ির আশপাশে ছিলাম না।'
(0)Comments