কলকাতা, 8 সেপ্টেম্বর: পুজোর মুখে শহরের রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়ার আগে সাবধান ! কোথাও মাংসে ছত্রাক, কোথাও পচা-বাসি খাবার, কোথাও আবার রান্নাঘরে তেল-ময়লা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ । খাবার রাখার জায়গায় আরশোলা-ইঁদুরের উপদ্রবও নজরে এসেছে কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকদের ।
এমনকী একটি ক্ষেত্রে বিরিয়ানির মধ্যে দেওয়ালের রঙের চিহ্নও মিলেছে বলে সূত্রের খবর । এক সপ্তাহের খাদ্যসুরক্ষা অভিযানে এমনই নানা অনিয়মের অভিযোগে কলকাতার 40টি খাবারের দোকান, রেস্তরাঁ এবং মিষ্টির দোকানের ফুড লাইসেন্স সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করার কথা জানাল কলকাতা পুরনিগম ।
1 থেকে 7 সেপ্টেম্বর খাদ্যসুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালায় পুরনিগমের খাদ্যসুরক্ষা শাখা । পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, মোট 592টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে । 1,224 কেজি খাবার ও খাবার তৈরির অনুপযোগী কাঁচামাল নষ্ট করা হয়েছে । 161টি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে । 112টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশও দেওয়া হয়েছে ।
পুরনিগম সূত্রে খবর, অনিয়মের তালিকায় ছোট দোকানের পাশাপাশি রয়েছে শহরের পরিচিত কিছু খাবারের প্রতিষ্ঠানও । নিজামস, করিমস, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, গিরিশচন্দ্র দে ও নুকুড়চন্দ্র নন্দী, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা বিরিয়ানি-সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম পুর প্রশাসনের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ।
তবে এই তালিকা নিয়েই তৈরি হয়েছে কিছু ধোঁয়াশা । কোথাও 'লাইসেন্স সাসপেন্ড', কোথাও আবার 'সাসপেনশন রেকমেন্ডেশন' লেখা হয়েছে । ফলে কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে । পুরনিগম অবশ্য জানিয়েছে, অভিযান ও নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে ।
পুর প্রশাসন সূত্রের খবর, এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি চোখে পড়েছে, তা হল পরিচ্ছন্নতার অভাব । রান্নাঘর থেকে খাবার সংরক্ষণের জায়গা, একাধিক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি বলে অভিযোগ । কোথাও মেয়াদ পেরোনো উপকরণ, কোথাও ছত্রাক ধরা খাবার, কোথাও নিষিদ্ধ রং ব্যবহারের অভিযোগ মিলেছে । খাদ্য সংরক্ষণের জায়গায় আরশোলা ও ইঁদুরের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে ।
অভিযানের সময় নামী রেস্তরাঁ থেকে শপিং মলের ফুড কোর্ট, কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি । দক্ষিণ কলকাতার শপিং মল থেকে মধ্য কলকাতার রেস্তরাঁ, ডেকার্স লেন থেকে নিউ মার্কেট- বিভিন্ন এলাকায় হেঁশেলে ঢুকে খাবারের মান, মজুতের পদ্ধতি এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখেছেন পুরনিগমের সদস্যরা ।
পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের বক্তব্য, এই ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করার জন্য নয় । সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ত্রুটি শুধরে খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে চলার ব্যবস্থা করতে হবে । তার পরে প্রয়োজনীয় আবেদন করলে লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে । পুরনিগমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, 'লাইসেন্স বাতিল' বললেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই পদক্ষেপটি সাময়িক সাসপেনশন ।
পুজো যত এগোবে, ততই বাড়বে রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান এবং বিভিন্ন খাবারের প্রতিষ্ঠানে ভিড় । সেই কারণেই অভিযান আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে পুরনিগম । ইতিমধ্যেই শহরের সমস্ত রেস্তরাঁর রান্নাঘর পুজোর আগে অন্তত এক বার পরিদর্শনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে । পুর প্রশাসনের বার্তা, মানুষ টাকা দিয়ে খাবার কিনছেন, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বাসও । সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব । পুজোর বাজারে সেই বিশ্বাসে যাতে ভেজাল, বাসি খাবার কিংবা অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘরের ছায়া না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই অভিযান চলবে ।
(0)Comments