বসুন্ধরার সুদমুক্ত ঋণে আলোকিত তারা

বসুন্ধরার সুদমুক্ত ঋণে আলোকিত তারা
View on original source
Category: Entertainment
Share
Archive
Like
অভাবের টানাপোড়েনে দিন কাটানো মানুষগুলোর চোখে আজ নতুন স্বপ্নের ঝিলিক। কোনো ঋণের বোঝা নয়, নেই বাড়তি সার্ভিস চার্জের চিন্তা। সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ হাতে পেয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। গতকাল দুপুরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়ামে এক উৎসবমুখর পরিবেশে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এরপর পৃষ্ঠা ৬ কলাম ৪ [তৃতীয় পৃষ্ঠার পর] আয়োজিত হয় এ সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ বিতরণ কর্মসূচি। ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবার মোট ৮০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৮ জনের মধ্যে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৫৬ জনের মধ্যে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তৃতীয় ধাপে ৫৭ জনের মধ্যে ২০ হাজার টাকা করে মোট ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, চতুর্থ ধাপে ২৬৫ জনের মধ্যে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৫৩ লাখ টাকা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল এমরান খান। তিনি বলেন, এটি একটি মহৎ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি ঋণগ্রহীতাদের প্রতি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের পরিশোধ করা অর্থ দিয়েই ভবিষ্যতে আরও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে। ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, 'বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ঋণের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে এসে এই অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সাহেব এবং তাঁর পরিবারের সব সদস্যের জন্য আপনারা আন্তরিকভাবে দোয়া করবেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র অফিসার আমির হোসেন আনোয়ারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ঋণগ্রহীতারা। ঋণগ্রহীতা মানিকপুরের আফসানা আক্তার (৩২) বলেন, 'গরিব মানুষ আমরা, অভাব তো পিছু ছাড়ে না। কিন্তু বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন কোনো সুদ ছাড়া টাকা দিছে, এইডা আমাদের জন্য কত বড় যে উপকার তা বুঝাইতে পারমু না। এই টাকা কাজে লাগাইয়া সংসারে একটু স্বস্তি ফিরাবামু।' হোগলাকান্দির চাঁন বানু (৪৭) বলেন, 'আমাগো সংসারে অভাব-অনটন আছে, নিজের একটা কাম করার ইচ্ছা আছিল, কিন্তু টাকার অভাবে পারতেছিলাম না। বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন থেইকা সুদ ছাড়া টাকা পাইয়া অনেক খুশি হইছি। এই টাকা দিয়া একটা কাজ শুরু করমু, যাতে সংসারে কিছুটা আয় হয়। যারা আমাগোর মতো গরিব মানুষরে সাহায্য করতেছে, আল্লাহ যেন তাগো ভালো রাখে।' বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী ও কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাঞ্ছারামপুরের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। উপকারভোগীদের মতে, এটি কেবল ঋণের টাকা নয়, বরং চরম দারিদ্র্য থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বী জীবন গড়ার এক শক্ত হাতিয়ার।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.