চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নে তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নে তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
View on original source
Category: Business
Share
Archive
Like
চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। তবে কক্সবাজারের মগনামায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে ৪৯.১৫ একর জায়গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনসেশন চুক্তি হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বে-টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল ও একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পিপিপি মডেলে নির্মাণ ও পরিচালনার পরিকল্পনা করা এই টার্মিনাল চালু হলে প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ এবং ৫-৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে। প্রকল্পের ২ডি সিমুলেশন শেষ হয়েছে এবং ৩ডি সিমুলেশন আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'কক্সবাজারের মগনামায় কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নেই সরকারের। তবে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জাইকার সহযোগিতায় গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।' মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে ১৬ মিটার ড্রাফটের এবং ৮২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে দেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ টিইইউ বাড়বে। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১৫শতাংশ। কর্ণফুলীতে সারা বছর ড্রেজিং: চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে কর্ণফুলী নেভিগেশন চ্যানেলে সারা বছর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হয় বলে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাপিটাল ড্রেজিংও করা হয়। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত এলাকায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় গড়ে চার মিটার গভীরতা তৈরি হয়েছে এবং বাণিজ্যিক ও লাইটারেজ জাহাজের চলাচল সহজ হয়েছে। নৌদুর্ঘটনা ঠেকাতে নজরদারি: নৌদুর্ঘটনা কমাতে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, লঞ্চ টার্মিনালে নজরদারি এবং নৌযানের মাস্টার-ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমে উপকূলীয় যাত্রীদের নিরাপত্তায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বে-ক্রসিং সনদ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নৌযান ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে দেশে প্রথমবারের মতো শুমারি করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২,৫২,৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।

(0)Comments

 

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.