বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তার সহযোগী মো. রায়হানের পরিচয়ে চট্টগ্রামে এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ২টা থেকে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নাম্বারসহ ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ।
সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং '১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না' এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করেন ওই চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া।
চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মেদসহ সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সের সমন্বয়ে এ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- হাটহাজারীর খন্দকিয়া এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. মানিক (৪০), নুরুল আলম (৪০), ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বার (৪০), চিনকদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল (২৫) এবং নগরীর বায়েজিদ থানাধীন জালালাবাদ এলাকার মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০)।
তাদের মধ্যে আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ৮ মামলা রয়েছে। মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও ডাকাতি প্রস্তুতিসহ ২টি, কামরুল হাসান সাগর, মো. রিকু, তরিকুল ইসলাম রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ ৩টি করে মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া বলেন, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসী রায়হান, বড় সাজ্জাদসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার একজন চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং '১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না' এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একইভাবে বড়দিঘীরপাড় এলাকার একজন ব্যবসায়ীকেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাগুলো সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং পূর্বে গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া জানান, চক্রটি সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয়কে অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো।
তিনি বলেন, ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেফতারকৃতরা একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিল। বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করা এবং পরবর্তীতে সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করাই ছিল গ্রেফতার চাঁদাবাজদের মূল কৌশল।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
(0)Comments