বিপুল অর্থ উপার্জন করে সংসারের হাল ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের ছয় বাংলাদেশি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। ২৮ জুলাই রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্স টাউনের একটি সুপারশপে অগ্নিকাে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারান তাঁরা। মৃত্যুর এক মাসের বেশি পেরিয়ে গেলেও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার কোনো ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা পায়নি বলে স্বজনদের অভিযোগ। এমনকি তাঁদের লাশও দেশে ফেরত আসেনি। নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং একজন মুন্সিগঞ্জ সদরের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন ফতুল্লা আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম (২৯), আলী মিয়ার ছেলে আপন আহমেদ (২৩), মৃত শরব আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৫৫), তৈলখিয়ার চর এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), বক্তাবলী ইউনিয়নের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিন (৩০) এবং মুন্সিগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া এলাকার মৃত সালাম বেপারির ছেলে মো. রাজিক (৫৫)।
স্বজনরা জানান, আগুনে নিহত ব্যক্তিদের লাশ দক্ষিণ আফ্রিকাতেই কাফনদাফন করা হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। ফলে দেশে লাশ ফেরার আশাও ছেড়ে দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের কর্মস্থলে কোনো বকেয়া বেতন বা পাওনা এখনো পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, 'আমরা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। সরকার থেকে আর্থিক অনুদান পাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলে আমরা তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা করব।'
(0)Comments