UN

unknown

আমাদের বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রোডম্যাপ কোথায়?

Image
১. প্রথম প্রহর ও বিদ্যুতের লোডশেডিং ২.০-এর নির্মম বাস্তবতা ২০২৬ সালের এক তাপদাহের দুপুরে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীর স্পিনিং মিলের মালিক রফিকুল ইসলাম কারখানার মূল ফটকে দাঁড়িয়ে জেনারেটরের বিকট শব্দের দিকে বিষণ্ণ চোখে তাকিয়ে ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় তাঁর কারখানার দৈনিক সুতা উৎপাদন প্রায় ৪০% কমে গেছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) ও কয়লার আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার টানাপোড়েনের কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২,৫০০ মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। রফিকুল ইসলাম বলেন, "আগে লোডশেডিং হলে সাময়িক মনে হতো, কিন্তু এখন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার এই নতুন রূপ আমাদের শিল্প উৎপাদন ধ্বংস করে দিচ্ছে। ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালিয়ে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ছে ৩৪ টাকা, যেখানে গ্রিডের বিদ্যুৎ পেতাম ১২ টাকায়।" অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন রামগড়ের কৃষক খোরশেদ আলম সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ না পেয়ে তপ্ত রোদে ধানক্ষেত শুকিয়ে যেতে দেখছেন। ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনৈতিক পেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রফিকুল বা খোরশেদের মতো হাজারও উদ্যোক্তা ও কৃষকের এই হাহাকার কোনো বিচ্ছিন্ন দৃশ্য নয়; এটি মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা এবং আমাদের অনতিবিলম্বে সৌর ও বায়ু শক্তির দিকে রূপান্তরিত হওয়ার এক করুণ বাস্তব দলিল। ২. সামষ্টিক খতিয়ান ও বিদ্যুৎ সংকটের সংখ্যাত্মক চিত্র বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পাওয়ার সেল (Power Cell)-এর সাম্প্রতিক তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করলে দেশের পাওয়ার সেক্টরের বর্তমান সংকট স্পষ্ট অনুধাবন করা যায়। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্যচিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ইনস্টলড বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৭,০০০ মেগাওয়াট হলেও প্রাথমিক জ্বালানি (গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও কয়লা)-র অভাবে বাস্তবে উৎপন্ন হচ্ছে মাত্র ১৩,৫০০ থেকে ১৪,০০০ মেগাওয়াট। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনও প্রায় ৫০% গ্যাস এবং ২৫% আমদানি করা কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB)-এর তথ্যমতে, নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে মাত্র ১,২০০ মেগাওয়াট (মোট উৎপাদনের ৫%-এরও কম)। অথচ বিদ্যুৎ নীতি অনুযায়ী ২০২৬-২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদনের অন্তত ১০-১৫% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। জ্বালানি আমদানিতে প্রতি বছর প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে গিয়ে জাতীয় অর্থনীতি যে চাপের মুখে পড়ছে, সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করলে তা আরও ঘনীভূত হবে। ৩. আমদানি নির্ভরতার বাণিজ্যিক ছায়া ও আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি আমরা যদি পাওয়ার এনার্জি ইকোনমিক্স ও এনভাইরনমেন্টাল পলিসির দৃষ্টি থেকে এই সংকটের গতিপ্রকৃতি পরীক্ষা করি, তবে দেখতে পাব যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাথমিক জ্বালানির দামের চরম ওঠানামা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। রামপাল, পায়রা কিংবা মাতাবাড়ী মেগা থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো সাময়িকভাবে গ্রিড সামাল দিলেও কয়লা ও অরিজিনাল স্পেয়ার পার্টস আমদানির অনিশ্চয়তায় প্রায়শই আংশিক বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের সোলার পার্ক প্রজেক্টগুলোর জমি অধিগ্রহণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সঞ্চালন লাইন (Transmission Line) তৈরিতে বিলম্বের কারণে প্রস্তাবিত ১,৫০০ মেগাওয়াট সোলার প্রজেক্ট আটকে আছে। গ্রিড ডাইভারসিফিকেশনের অভাবে সামান্য মেঘলা আবহাওয়া বা ফুয়েল শর্টেজেই পুরো অঞ্চলে একসাথে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। ৪. কারখানা ও কৃষিতে অনিয়মিত বিদ্যুতের ঘাতক প্রভাব শিল্প ও কৃষি খাতে অনিয়মিত বিদ্যুতের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বাস্তব উদাহরণ হিসেবে, গাজীপুরের শ্রীপুরের 'এপেক্স নিটিং' ফ্যাক্টরিতে এক সপ্তাহে টানা ভোল্টেজ ড্রপ এবং চারবার আনপ্ল্যান্ড লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের অত্যাধুনিক ডাইং মেশিনের মাদারবোর্ড পুড়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আধুনিক পোল্ট্রি খামারি রাজিব হোসেন বিদ্যুৎহীনতায় প্রপার ভেন্টিলেশন না থাকায় এক রাতেই প্রায় ৫০০ মুরগি হারিয়ে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েন। যদি কারখানাটিতে আগেই রূফটপ সোলার (Rooftop Solar) এবং পোল্ট্রি ফার্মে সোলার পাওয়ার সিস্টেম বসানো থাকত, তবে তাদের এই আকস্মিক আর্থিক ক্ষতি শতভাগ এড়ানো সম্ভব হতো। এই ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর শতভাগ ভরসা রাখা এখন শিল্প ও কৃষি উভয় খাতেই মারাত্মক অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। ৫. প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বাস্তবায়ন জ্বালানি সংকট কাটিয়ে জাতীয় গ্রিড সচল রাখতে টেকসই বিকল্প শক্তির রোডম্যাপ কার্যকর করা জরুরি। প্রথমত, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (SREDA)-এর পরিচালনায় দেশের সকল সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজ এবং শিল্প কারখানার ছাদে 'নেট মিটারিং' (Net Metering) পদ্ধতির অধীনে রূফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমিগুলোতে বড় আকারের 'ভাসমান সৌর পার্ক' (Floating Solar Park) এবং কক্সবাজার ও সিরাজগঞ্জের মতো উপকূলীয় অঞ্চলে বৃহৎ বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Wind Power Plant) জোরদার করতে হবে। একই সাথে সোলার ইনভার্টার ও ব্যাটারি আমদানিতে ট্যাক্স ও শুল্ক ছাড় দিয়ে প্রাইভেট খাতকে ইনভেস্টমেন্টে উৎসাহিত করা আবশ্যক। ৬. খাতভিত্তিক উন্নয়ন ও মাননিয়ন্ত্রণ কাঠামোর উদাহরণ নবায়নযোগ্য শক্তিকে দ্রুত গ্রিডে যুক্ত করতে ও লোডশেডিং ২.০ মোকাবেলা করতে যেসব সুনির্দিষ্ট নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নিম্নরূপ: শিল্প কারখানায় রূফটপ সোলার ও ওপেক্স মডেল : শিল্প মালিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না ফেলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে সোলার সিস্টেম বসানো। উদাহরণস্বরূপ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় ওপেক্স (OPEX) মডেলে মোট ৫০ মেগাওয়াট রূফটপ সোলার চালুর ফলে তাদের বিদ্যুৎ খরচ মিনিটে গড়ে ২৫% কমে এসেছে। : শিল্প মালিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না ফেলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে সোলার সিস্টেম বসানো। উদাহরণস্বরূপ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় ওপেক্স (OPEX) মডেলে মোট ৫০ মেগাওয়াট রূফটপ সোলার চালুর ফলে তাদের বিদ্যুৎ খরচ মিনিটে গড়ে ২৫% কমে এসেছে। সৌরচালিত সেচ পাম্প (Solar Irrigation Pump) সম্প্রসারণ : ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের জায়গায় সৌর পাম্পের বিস্তার করা। উদাহরণস্বরূপ, রংপুর ও দিনাজপুরে ইডকল (IDCOL)-এর অধীনে ৩,০০০ সোলার সেচ পাম্প বসানোয় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮,০০০ টন ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে এবং কৃষকের সেচ খরচ ৪৫% কমেছে। : ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের জায়গায় সৌর পাম্পের বিস্তার করা। উদাহরণস্বরূপ, রংপুর ও দিনাজপুরে ইডকল (IDCOL)-এর অধীনে ৩,০০০ সোলার সেচ পাম্প বসানোয় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮,০০০ টন ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে এবং কৃষকের সেচ খরচ ৪৫% কমেছে। স্মার্ট গ্রিড ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS): দিনের বেলা সোলার থেকে তৈরি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ধরে রেখে রাতে ব্যবহার করার জন্য বিইএসএস প্রযুক্তি যুক্ত করা। উদাহরণস্বরূপ, টেকনাফের ২০ মেগাওয়াট সোলার পার্কে লিথিয়াম-আয়ন স্টোরেজ যুক্ত করায় স্থানীয় গ্রিড বিপর্যয় প্রায় ৮০% হ্রাস পেয়েছে। ৭. নীতিগত সংস্কার সূচক ও জ্বালানি ডেটার বিশ্লেষণ যদি সমন্বিত সোলার ও উইন্ড পাওয়ার রোডম্যাপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে কেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে, তার সম্ভাব্য পরিসংখ্যানিক প্রাক্কলন: নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বৃদ্ধি : মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সৌর ও বায়ু শক্তি থেকে অন্তত ৩,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে গ্রিডে যুক্ত হবে। : মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সৌর ও বায়ু শক্তি থেকে অন্তত ৩,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে গ্রিডে যুক্ত হবে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও বৈদেশীক মুদ্রা সাশ্রয় : গ্যাস ও কয়লা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমায় বছরে অন্তত ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। : গ্যাস ও কয়লা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমায় বছরে অন্তত ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে। শিল্প খাতে উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্নতা ও প্রবৃদ্ধি : কারখানায় রূফটপ সোলার যুক্ত হলে অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিংজনিত উৎপাদন ক্ষতি প্রায় ৬০% কমে যাবে। : কারখানায় রূফটপ সোলার যুক্ত হলে অনাকাঙ্ক্ষিত লোডশেডিংজনিত উৎপাদন ক্ষতি প্রায় ৬০% কমে যাবে। কার্বন নির্গমন হ্রাস : সবুজ শক্তি ব্যবহারে বছরে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে, যা জলবায়ু ফান্ড পেতে সাহায্য করবে। : সবুজ শক্তি ব্যবহারে বছরে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে, যা জলবায়ু ফান্ড পেতে সাহায্য করবে। কৃষকের সেচ খরচ সাশ্রয়: সৌর সেচ পাম্প চালুর মাধ্যমে প্রতি একর জমিতে ফসলের উৎপাদন খরচ অন্তত ৩০% হ্রাস পাবে। ৮. জ্বালানি সংকট ও শিল্প-অর্থনীতির বৈশ্বিক অভিঘাত যখন আমরা বিদ্যুতের অভাবে কারখানার চাকা থমকে যাওয়া কিংবা তীব্র গরমে গ্রামগঞ্জের মানুষের ভোগান্তি প্রত্যক্ষ করি, তখন জাতীয় জ্বালানি নীতি পুনর্গঠনের গুরুত্ব নতুন করে ধরা দেয়। আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি বা সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় আর নেই। যে জাতি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে না, সেই জাতির পক্ষে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে টিকে থাকা অসম্ভব। সৌর ও বায়ু শক্তি কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অস্তিত্ব ও শিল্প সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার। আজই যদি আমরা বিকল্প শক্তির এই মহাসড়কে জোর কদমে পা না বাড়াই, তবে আমাদের শিল্প খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে থমকে যাবে। ৯. সামাজিক দায়িত্ব ও যৌথ প্রতিরোধের রূপরেখা জ্বালানি সংকট নিরসন এবং বিকল্প শক্তি জনপ্রিয় করা সরকার, শিল্পপতি ও সাধারণ নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। নাগরিকদের এনার্জি সেভিং অভ্যাস গড়ে তোলা : বসতবাড়ি ও অফিসে অহেতুক বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করা এবং বাসার ছাদে রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারে আগ্রহী হওয়া। : বসতবাড়ি ও অফিসে অহেতুক বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করা এবং বাসার ছাদে রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহারে আগ্রহী হওয়া। শিল্প মালিকদের গ্রিন এনার্জিতে বিনিয়োগ : শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা না করে কারখানার খালি ছাদ ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা। : শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা না করে কারখানার খালি ছাদ ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা। ব্যাংকিং খাতের সবুজ অর্থায়ন (Green Financing): বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোকে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ দিতে বাধ্য করা। ১০. প্রজ্ঞার দর্পণ ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিশাস্ত্র একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে তার দূরদর্শী দূরদৃষ্টি ও প্রাকৃতিক সম্পদের বুদ্ধিমান ব্যবহারের ওপর। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিবেক আজ আমাদের নির্দেশ করে যে, আমদানিকৃত দামি জ্বালানির পেছনে বিলিয়ন ডলার ঢালার চেয়ে নিজের দেশের সুপ্রাচীন রোদ ও উপকূলীয় বাতাসকে বিদ্যুতে রূপান্তর করাই আসল প্রজ্ঞা। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের মতো সেরা বিদ্যাপীঠগুলো যে শৃঙ্খলা, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা দেয়, তা জাতীয় নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনে প্রয়োগ করা জরুরি। নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব ঘটিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি মৌলিক দায়বদ্ধতা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক বাকবদল মুহূর্তে আমাদের অনুধাবন করতে হবে যে, সূর্য ও বাতাসের শক্তিই আমাদের আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। ১১. ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও আলোকিত সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা এমন এক স্বাবলম্বী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে চাই, যেখানে কোনো গ্রাম বা শহরকে অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে হবে না। আমরা দেখতে চাই, দেশের প্রতিটি কারখানার ছাদ ও প্রতিটি অনাবাদি চরাঞ্চল সৌর প্যানেলে ঢেকে গেছে এবং দেশের পাওয়ার গ্রিড সবুজ শক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকার, বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ যদি ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৩০% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্যে সফল হয়, তবে আমাদের অর্থনীতি হবে আরও শক্তিশালী, টেকসই ও ভবিষ্যৎ-সুরক্ষিত। ১২. চূড়ান্ত সমাপনী ও অবিনাশী মুক্তির ইশতেহার পরিশেষে, ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের এটি শক্তভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে যে, 'লোডশেডিং ২.০' কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের জ্বালানি খাতকে আমূল বদলে ফেলার এক সুবর্ণ সুযোগ। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অন্ধ নির্ভরতা ত্যাগ করে সৌর ও বায়ু শক্তির বিকল্প রোডম্যাপ বাস্তবায়নে আমাদের এখনই নামতে হবে। আসুন, আমরা সূর্য ও বায়ুর এই অফুরন্ত প্রাকৃতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাই। আমাদের সমন্বিত উদ্যোগই পারে বাংলাদেশকে একটি টেকসই, উন্নত ও বিদ্যুৎ-সংকটমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে। ১৩. চূড়ান্ত পরিণতি ও অন্তিম দৃশ্যপট ২০২৬ সালের শেষভাগে এসে সিরাজগঞ্জের সেই বিসিক শিল্পনগরীর রফিকুল ইসলামের কারখানার দৃশ্যটি আবার স্মরণ করা যায়। যেখানে তিনি নিজ উদ্যোগে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূফটপ সোলার প্যানেল বসানোর পর এখন তাঁর কারখানার শত শত মেশিন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। বিকেলের সূর্য যখন উজ্জ্বল আলো ছড়াচ্ছে, তখন সোলার মিটারে দেখা যাচ্ছে কারখানা চালিয়েও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি হচ্ছে। রফিকুল ইসলাম হাসিমুখে তাঁর চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে বললেন, "আমদানিকৃত জ্বালানির ভরসা ছেড়ে নিজেদের সোলার পাওয়ারে আসাটাই ছিল আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত, এখন লোডশেডিং হলেও আমাদের চাকা থামে না।" এই স্বস্তির চিত্র প্রমাণ করে দেয় যে, সঠিক বিকল্প শক্তির রূপরেখা গ্রহণ করলে কোনো জ্বালানি সংকটই আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারবে না। বিপি/এনএস
আমাদের বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রোডম্যাপ কোথায়?
View on original source
Share
Archive
Like

(0)Comments

 

Related Opinion

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.