ল খ

ভারতে ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের মধ্যে কেন চাপা দুশ্চিন্তা

Image
ব্রাজিলে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সংস্থাটির নেতারা। ৭ জুলাই ২০২৫, রিও ডি জেনিরো কলাম ২০২৩ সালে জোহানেসবার্গ সম্মেলনে যখন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই তুলনামূলক কম আলোচিত জোটটি বড় ধরনের সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়, তখন অবশেষে চোখ মেলে তাকায় পশ্চিমা বিশ্ব। প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পর আর সেই সম্প্রসারণের দুই বছর শেষে দেখা গেল ব্রিকসের মূল সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে বেড়ে ১০-এ দাঁড়িয়েছে। নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাশাপাশি আরও ১০টি দেশকে 'অংশীদার দেশ' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ১২ সেপ্টেম্বরে যখন নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা উড়াল দিচ্ছেন, তখন কিন্তু একটি চাপা দুশ্চিন্তা স্পষ্ট। যে সম্প্রসারণকে গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের এক বিজয়ের শুরু বলে মনে হয়েছিল, তা এখন ক্রিসমাস বা দীপাবলিতে একত্র হওয়া কোনো বিশৃঙ্খল পরিবারের মতো শোনাতে শুরু করেছে। Also read: ব্রিকস কি পশ্চিমের মোড়লগিরি ঠেকাতে পারবে এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত 'স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন' শীর্ষক বর্ণাঢ্য এজেন্ডা সাজাতে বেশ পরিশ্রম করেছে। তবে দ্রুত আয়তন বৃদ্ধির কারণে তৈরি হওয়া বদহজম এবং বাস্তব ক্ষেত্রে সীমিত প্রভাবের মুখে এখন একটাই বড় প্রশ্ন ঝুলে আছে—ব্রিকসের ভবিষ্যৎ পথচলা আসলে কোন দিকে? সম্প্রসারণপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ব্রিকসের ভেতরের সংকটগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সবচেয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে সমস্যা দেখা দেয় জোটের আফ্রিকান অংশ থেকে। নতুন দুই সদস্য মিসর ও ইথিওপিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) স্থায়ী সদস্যপদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানায়—যদিও জানা যায়, আগে তারা এতে সম্মত হয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে কোনো যৌথ ঘোষণা বা বিবৃতি আসতে ব্যর্থ হয়, যা ব্রিকসের ইতিহাসে প্রথম। একই ঘটনাই আবার ঘটে ২০২৫ সালের এপ্রিলের বৈঠকেও। (২০১১ সালের পর থেকে ব্রিকসের প্রতিটি ঘোষণাপত্রেই জাতিসংঘ সংস্কার প্রস্তাবনায় দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি ব্রাজিল ও ভারতের নাম নিয়মিতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে আসছিল)। শেষ পর্যন্ত সে বছর রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ঘোষণাপত্র থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার নামটি বাদই পড়ে যায় এবং সেখানে শুধু ব্রাজিল ও ভারতের উল্লেখ রাখা হয়। ২০২৩ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন ব্রিকস পরিবারের একটি যৌথ ছবির জন্য পোজ দিচ্ছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যুদ্ধটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও। এর আগের বছর, সংঘাত সীমিত থাকা অবস্থায় ব্রাজিল একটি যৌথ বিবৃতি দিতে সদস্যদেশগুলোকে একমতে আনতে পেরেছিল। তবে যুদ্ধ তীব্র রূপ নিলে সেই ভঙ্গুর ঐক্য ভেঙে পড়ে। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে আবারও যৌথ ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয় ব্রিকস। এরপর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিকস প্রতিষ্ঠা থেকে নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসবাদের যে নিন্দা জানানো হতো, তাতে 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ' শব্দবন্ধ যুক্ত করার জোরালো দাবি তোলে ইরান, যা দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করছিল। কিন্তু অধিকাংশ সদস্যই অতটা চরম অবস্থানে যেতে রাজি ছিল না। শেষ পর্যন্ত আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত দুটি বৈঠকের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরে নিজস্ব একটি বিবৃতি দেয়। ভারত প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ব্রিকসের স্থিতিশীলতায় নাড়া দেয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা চীন, ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করে। প্রিটোরিয়া এটিকে ব্রিকসের সামরিক মহড়া হিসেবে তুলে ধরে এবং সব সদস্যদেশকে আমন্ত্রণ জানায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠালেও সেটিকে বন্দরেই নোঙর করে রাখে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কোনো ব্যর্থ প্রকল্প বলে অভিহিত করাটা ভুল হবে। মাত্র দুই দশকের কম সময়ে ধনী পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে গিয়ে প্রথম একটি সত্যিকারের আন্তমহাদেশীয় ক্লাব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ব্রিকস। ব্রাজিল, মিসর, ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়া শুধু পর্যবেক্ষক হিসেবে মহড়ায় অংশ নেয়। আর দিল্লি স্পষ্টভাবেই এতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে এবং ঘটনাটিকে 'সম্পূর্ণরূপে দক্ষিণ আফ্রিকার নিজস্ব উদ্যোগ' এবং 'ব্রিকসের নিয়মিত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নয়' বলে উল্লেখ করে। মহড়ায় ইরানের উপস্থিতি ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার ইরানিদের মহড়া থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, তবে খবর আসে ইরানি জাহাজগুলো নাকি সরেনি। পরিশেষে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের নিজস্ব নৌবাহিনীর বিরুদ্ধেই প্রেসিডেন্টের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করতে হয়। ব্রিকসের জন্য নিশ্চিতভাবেই এটি কোনো স্বস্তিদায়ক দৃশ্য ছিল না। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এসব বিশৃঙ্খলা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কোনো ব্যর্থ প্রকল্প বলে অভিহিত করাটা ভুল হবে। মাত্র দুই দশকের কম সময়ে ধনী পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে গিয়ে প্রথম একটি সত্যিকারের আন্তমহাদেশীয় ক্লাব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ব্রিকস। বৈশ্বিক দক্ষিণের সব অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব এখন এতে আছে এবং অর্থনৈতিক উৎপাদনের দিক থেকে এটি জি-৭ গোষ্ঠীকেও ছাড়িয়ে গেছে। উন্নয়ন অর্থায়ন তাদের অন্যতম বড় সাফল্যের গল্প; যার বড় প্রমাণ ১০ বছর ধরে উচ্চ ক্রেডিট রেটিং নিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হওয়া নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)। এ ছাড়া সদস্যদেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন বৃদ্ধির কারণে গ্লোবাল সাউথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে একটি উন্নত নীতিগত ঐক্য তৈরি হচ্ছে। Also read: ব্রিকস কি বিশ্বরাজনীতির নতুন কেন্দ্র হতে পারবে তবে সম্প্রতি প্রসারিত এই ব্রিকস একটি তীব্র সংঘাতময় বিশ্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আগে ব্রিকস–বহির্ভূত অঞ্চলগুলোর সংঘাত (যেমন সিরিয়া কিংবা আফগানিস্তান) নিয়ে একমত হওয়া সহজ ছিল। এমনকি ইউক্রেন সংঘাতের মতো জটিল বিষয় সামলানোও খুব একটা কঠিন ছিল না; কারণ গ্লোবাল সাউথের প্রায় সব দেশই এতে কূটনীতিকে সমর্থন জানিয়েছিল এবং পশ্চিমের মতো একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি না রেখে সংঘাতের পেছনে নানা জটিল কারণ রয়েছে বলে মনে করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিকসের অনেক সদস্যদেশকে এখন নিশ্চিতভাবেই কোনো না কোনো পক্ষ নিতে হচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাহলে ব্রিকস কি নিরাপত্তা–সংক্রান্ত আলোচনা থেকে নিজেদের একদম দূরে সরিয়ে নিতে পারে? বস্তুত জোটটির সূচনা দাঁড়িয়ে ছিল অর্থনীতি ও অর্থায়নের ভিত্তির ওপর। ২০০৬ সালে গোল্ডম্যান স্যাকসের বৈশ্বিক অর্থনীতি গবেষণা প্রধানের একটি গবেষণাপত্র থেকে ধারণা নিয়ে এর মূল চার সদস্য 'ব্রিক' নামে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু করে। তবে ২০০৯ সালের প্রথম শীর্ষ সম্মেলনেই সংস্থাটি নিরাপত্তার নানা বিষয়ে গুরুত্ব দিতে শুরু করে—যেমন বহুমুখী বৈশ্বিক শৃঙ্খলা, সম্মিলিত নিরাপত্তা, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং সন্ত্রাসবাদ দমন। দুই দশকেরও কম সময়ে ব্রিকসের নেতারা একটি আন্তমহাদেশীয় জোট গড়ে তুলেছেন—যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ গভীর করছে এবং কিছু দৃশ্যমান সাফল্যের মুখ দেখেছে। এখনো এর সামগ্রিক প্রভাব হয়তো পরিমিত, তবে পশ্চিমের একক আধিপত্যের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় এর টিকে থাকা এবং বৃদ্ধির গল্পটি কম প্রশংসনীয় নয়। পরবর্তী ১৬টি সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে নিয়মিতভাবেই এই তিনটি বিষয় ফিরে এসেছে এবং নিরাপত্তাবিষয়ক এজেন্ডা শুধুই প্রসারিত হয়েছে। ২০১১ সালে চীনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ন্যাটোর লিবিয়া অভিযান নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ ছিল; ২০১২ সালের দিল্লি সম্মেলনে ওঠে আরব-ইসরায়েল সংঘাত, সিরিয়া ও আফগানিস্তান প্রসঙ্গ এবং ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের আলাদা বৈঠক। সব সম্মেলনের উপাত্ত বিশ্লেষণ–সংক্রান্ত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিকসের আলোচনার মূল বিষয় যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ঠিক তার পরপরই অবস্থান ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোর। সুতরাং ব্রিকসের আলোচ্যসূচি থেকে নিরাপত্তাবিষয়ক এজেন্ডাকে সম্পূর্ণ আলাদা করা এখন আর সম্ভব নয়। আর আজকাল যেখানে প্রায় সবকিছুকেই নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, সেখানে বিষয়টি বাদ দেওয়া বাস্তবসম্মতও নয়। ২০০৯ সালে আত্মপ্রকাশের পর ব্রিকস দুটি বড় ধরনের সফলতার দেখা পেয়েছিল। প্রথমটি ছিল ২০১২-১৪ সালের মধ্যকার সময়, যখন ভারতের একটি উদ্ভাবনী প্রস্তাব এবং ব্রাজিলের কঠোর পরিশ্রমে ২০১৪ সালের সম্মেলনে জন্ম নেয় নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। আর দ্বিতীয় মোড়টি আসে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্মেলনে সংস্থাটির সদস্যপদ বৃদ্ধির মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ব্রিকস সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের আগে একটি পারিবারিক ফটোসেশনে অংশ নেন। কাজান, রাশিয়া, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ এখন স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে এবং উত্তাল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতে ব্রিকসের প্রয়োজন আরেকটি বড় ধাক্কা বা নতুন দিকনির্দেশনা। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের মূল সংস্কারবাদী আদর্শে অবিচল থাকা এবং চরমপন্থার প্রলোভন এড়ানোই হওয়া উচিত ব্রিকসের প্রধান দিকনির্দেশক। পাশাপাশি শুধু কথায় আটকে না থেকে বাস্তবে ফলাফল এনে দেখানো জরুরি—যাতে গ্লোবাল সাউথের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর অর্থ হলো, সবার আগে উন্নয়নমূলক সহায়তার পরিধি বড় আকারে প্রসারিত করা। আর নিরাপত্তাসংক্রান্ত এজেন্ডাকে কিছুটা ছোট করে আনা প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে চলা প্রতিটি যুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই—বিশেষ করে যেসব অবস্থানে কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ বা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। তবে ব্রিকসের যেসব বিষয়ে গভীর সদিচ্ছা ও সবচেয়ে বেশি ঐক্য রয়েছে, সেগুলোতে মনোনিবেশ করা ইতিবাচক ফল দিতে পারে। Also read: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই উদাহরণস্বরূপ, অরাষ্ট্রীয় সহিংসতা—যেমন সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যুতা ও সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে লড়াইয়ে ব্রিকস ভূমিকা রাখতে পারে। এসব হুমকি এখন দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যটি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন চাপ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় টানাপোড়েন নিরসনের জায়গা হিসেবেও কাজ করে চলেছে ব্রিকস; যেমন ২০২৪ সালে কাজান সম্মেলন ভারত ও চীনের জন্য ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের উত্তেজনা প্রশমিত করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। দুই দশকেরও কম সময়ে ব্রিকসের নেতারা একটি আন্তমহাদেশীয় জোট গড়ে তুলেছেন—যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ গভীর করছে এবং কিছু দৃশ্যমান সাফল্যের মুখ দেখেছে। এখনো এর সামগ্রিক প্রভাব হয়তো পরিমিত, তবে পশ্চিমের একক আধিপত্যের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় এর টিকে থাকা এবং বৃদ্ধির গল্পটি কম প্রশংসনীয় নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এবং যদি এটি নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর মাইনগুলো এড়িয়ে চলতে পারে, একটি সংস্কারমুখী ব্রিকস নিশ্চিতভাবেই উন্নয়নশীল বিশ্বের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতিগুলো পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সারং শিদোরে কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের একজন পরিচালক। ফরেন পলিসি থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।
ভারতে ব্রিকস সম্মেলন: বিশ্বনেতাদের মধ্যে কেন চাপা দুশ্চিন্তা
View on original source
Share
Archive
Like

(0)Comments

 

Related Opinion

A note on cookies

Newshunt uses essential cookies to keep you signed in and to remember your language and country, so the site works the way you expect. With your permission, we'd also like to use analytics cookies to understand how people use Newshunt and improve it over time.

Accepting only affects analytics. To learn more, view our Privacy Policy or Terms & Conditions.